স্থানীয় খবর

শেরপুরে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মান হচ্ছে

Spread the love

“মুনসী সাইফুল বারী ডাবলূ”
বগুড়ার শেরপুরে প্রায় ১২ কোটি ৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেšদ্র নির্মান কাজ হচ্ছে। গনপূর্ত বিভাগ বগুড়া ঠিকাদার নিয়োগ করে মসজিদের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই অবকাঠামো নির্মান কাজ প্রায় ৪৮% ভাগ শেষ হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমে মডেল মসজিদ নির্মান কাজ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মসজিদগুলো ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করবে। মসজিদগুলোতে নারী-পুরুষের আলাদা অজু করা ও নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি মসজিদ হবে একই মডেলের। প্রায় ৪০ শতক জায়গায় মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হবে। শেরপুর পৌর শহরের প্রানকেন্দ্র বাসট্যান্ড এলাকায় মসজিদের জন্য প্রয়োজনীয় ৪০ শতক জায়গা না পেয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থান নির্ধারণ করা হলেও নানা জটিলতার কারনে সেখানেও মসজিদটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনু’র প্রচেষ্টায় শহরের উত্তর পার্শ্বে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে খালের ধারে এক মনোরম পরিবেশে মডেল মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থপনা পরিচালক আলহাজ্ব সারোয়ার রহমান মিন্টু বলেন নির্মাণ কাজ দ্রæত এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যেই অবকাঠামো নির্মান কাজ প্রায় ৪৮% ভাগ শেষ হয়েছে। কার্যাদেশে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার সময় সীমা থাকলেও বর্ষণজনিত কারনে নির্মাণ কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় সময়মত কাজ শেষ না হলেও ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই নির্মান কাজ শেষ হবে বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থপনা পরিচালক আলহাজ্ব সারোয়ার রহমান মিন্টু আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত¡াবধানে মসজিদগুলো একই মডেলে নির্মিত হবে সারা দেশে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এগুলো নির্মিত হবে। জেলা পর্যায়ে চারতলা এবং উপজেলা পর্যায়ে তিনতলা মসজিদ নির্মিত হবে। প্রতিটি মসজিদে নারী ও পুরুষদের আলাদা আলাদা সুবিধা থাকবে। এছাড়াও থাকবে পৃথক পৃথক অজুখানা ও নামাজের ঘর। অন্যান্য সুবিধাগুলো হচ্ছে-পবিত্র কুরআন পাঠ, লাইব্রেরি, শিশুদের শিা, অতিথিশালা, মৃতদের গোসল করানো এবং হজযাত্রী ও ইমামদের প্রশিণের সুবিধা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে বলা হয়েছে-ইসলামী শিা ও সংস্কৃতি প্রসারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ করা সরকারের বিশেষ ল। এসব মসজিদ ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেই কাজ করবে।
দেশের বুদ্ধিজীবী মহল ও সাধারণ মানুষ সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ইসলাম ধর্মের উন্নয়ন, গবেষণা ও প্রসারের লে স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গঠন করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রতিটি জেলা পর্যায়ে রয়েছে এই ফাউন্ডেশনের কার্যালয়। ইসলামী গ্রন্থের প্রকাশনা, দেশব্যাপী ইসলামী পাঠাগার পরিচালনা, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিণ সহ ইসলামী তাহজিব তমদ্দুন বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
ইসলামের প্রসারে সরকার গৃহীত ধারাবাহিক নানা পদেেপর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ইতোপূর্বে তিনি সৌদি আরব সফরের সময় সে দেশের বাদশাহকে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। তখন সৌদি সরকার মডেল মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা অনুদান প্রদানের ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করে। এই প্রেেিত সরকার নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশী অর্থায়ন ছাড়াই মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এইসব মসজিদের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের। তবে বর্তমানে শেরপুরে কর্মরত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অদক্ষ ফিল্ড সুপারভাইজার এর কার্যক্রমে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তার দাঁড়ি টুপি বা ইসলামী লেবাস নেই। সরকারী বিভিন্ন কর্মসুচি সঠিকভাবে পালিত হয়না। অনেক কর্মসুচি শুধু ফটোসেশন করেই শেষ করা হয়। অনৈতিক কাজের জন্য শেরপুর উপজেলা পরিষদ মসজিদ থেকে যাকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে তিনি এখন শেরপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে মাতব্বরি করছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close