বিদেশের খবর

মাছ বৃষ্টির দেশ!

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: আমরা এসিড বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টির নাম শুনলেও অনেকে মাছ বৃষ্টির নাম শুনিনি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আমেরিকার প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হন্ডুরাসে প্রায় ১০০ বছর ধরে মাছ বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায়।
আজব এই ঘটনার শুর হয় ১৮০০ সালের মাঝামাঝি থেকে। হন্ডুরাসের ছোট্ট শহর ইউরোতে প্রচন্ড ঝড় ও বৃষ্টিতে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঝড় থেমে যাবার পর বাইরে বের হতেই লোকজন রাস্তায় পড়ে থাকা শতশত তাজা মাছ দেখে বিস্মিত হয়। সেই থেকেই মাছ বৃষ্টির শুরু!
অনেকে মনে করত পাশের হৃদ থেকে হয়তো মাছগুলো ভেসে আসে। তবে, স্বচে মাছ বৃষ্টি দেখার পরেই তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে মাছগুলো আকাশ থেকেই পড়ছে। প্রতি বছর অন্তত একবার এই ইউরো শহরে মাছ বৃষ্টির ঘটনা ঘটে।
ইউরো অত্যন্ত দারিদ্র-পীড়িত শহর হওয়ায় এই মাছ বৃষ্টি তাদের কাছে আশির্বাদ স্বরূপ। প্রতি বছর ইউরোবাসী মাছ বৃষ্টির জন্য অধীর আগ্রহে অপো করে।
মাছ বৃষ্টির মতো অদ্ভুত ঘটনা কেন ঘটে, এই ব্যাপারে হন্ডুরাসে দুই ধরণের ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, অন্যটি মনগড়া ব্যাখ্যা।
বৃষ্টিরূপে পতিত মাছগুলো পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, বেশিরভাগ মাছেরই দৃষ্টিশক্তি নেই। তার মানে এই মাছগুলো সমুদ্রের গভীর তলদেশের। এই তথ্য উল্লেখ করে বিজ্ঞানীরা মাছ বৃষ্টির কারণ হিসেবে দাঁড় করান টর্নেডোর প্রভাব।
বিজ্ঞানীদের মতে, টর্নেডোর ফলে সমুদ্রের তলদেশের জলজ প্রাণীগুলো ভূমিতে ছিটকে পড়ে। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় পতিত মাছগুলোর উৎস দেখানো হয়েছে সমুদ্রকে। যদিও এই ব্যাপারে বিতর্ক আছে। কারণ ইউরো শহর থেকে পাশে থাকা আটলান্টিক মহাসাগরের দূরত্ব প্রায় ১২৫ কিলোমিটার।
হন্ডুরাসে বহুল প্রচলিত মনগড়া ব্যাখ্যা মতে, ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে জোস ম্যানুয়েল সুবিরিয়ানা নামক এক সাধু ইউরোতে এসে সেখানকার মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় মাছ বৃষ্টি।
প্রতিবছর ইউরোবাসীরা ‘লুভিয়া দি পিসেস’ নামক উৎসব পালন করে। এই দিন তারা পতিত মাছগুলো রান্না করে খায় আর নাচে-গানে, আনন্দে মেতে ওঠে। ১৯৯৮ সাল থেকে এই উৎসব শুরু হয়।
শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট ্রসহ বেশ কিছু দেশে মাছ বৃষ্টির ঘটনা শোনা গেলেও হন্ডুরাসের মতো এরকম ধারাবাহিকভাবে কোনো দেশে মাছ বৃষ্টি হয় না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close