দেশের খবর

ঘরে বসেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করুন -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Spread the love

আজকের শেরপুর ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে ঘরে বসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অনুরোধ করেছেন। সেই সঙ্গে এই দুঃসময়ে দরিদ্র প্রতিবেশি, গ্রামবাসী ও এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়াতে সামর্থবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
ভাষণে তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এবছর সব ধরনের গণ-জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কাজেই স্বাভাবিক সময়ের মতো এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করা সম্ভব হবে না। ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে আমি ঘরে বসেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানাই, এই দুঃসময়ে আপনি আপনার দরিদ্র প্রতিবেশি, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর কথা ভুলে যাবেন না। আপনার যেটুকু সামর্থ্য আছে তাই নিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তাহলেই ঈদের আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে আপনার ঘর এবং হৃদয়-মন।
করোনা মহামারীর কারণে সারাদেশে কর্মহীন হয়ে পড়া লাখ লাখ মানুষের সহায়তার জন্য সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, খাদ্য সহায়তা ছাড়াও নগদ অর্থ দেয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত এক লাখ ৬২ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ১০ কেজি টাকা দরে বিক্রির জন্য ৮০ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মে মাসে দরিদ্র পরিবারের জন্য অতিরিক্ত ৫০ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে যার মাধ্যমে তাঁরা এই চাল কিনতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির কারণে সারাবিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। অগণিত মানুষের প্রাণহানি ছাড়াও এই মহামারী মানুষের রুটি-রুজির ওপর চরম আঘাত হেনেছে। সংক্রমন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য জরুরি কিছু সেবা ছাড়া বন্ধ করে দিতে হয়েছে অফিস-আদালত, কল-কারখানা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু। লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। হারিয়েছেন তাঁদের রুটি-রুজির সংস্থান। কাজ হারিয়েছেন কিন্তু কোন সহায়তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত নন এ ধরনের ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে মোট ১২ শো ৫০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য দু-দফায় ১৭ কোটিরও বেশি এবং সারা দেশের মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিনদের জন্য ১২২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সহায়তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে, ততদিন এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অনেক সদাশয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দরিদ্র জনগণের সহায়তায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণে এগিয়ে এসেছেন। আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close