জেলার খবর

গাবতলীতে সরকারি ১৫ মেট্রিক টন চাল বিক্রিঃ ব্যবসায়ী শাহীন গ্রেফতার, গুদাম কর্মকর্তা পুলিশ হেফাজতে

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার গাবতলীতে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ১৫ মেট্রিক টন চাল এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির সময় শুক্রবার সকালে শফিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়েছে। সরকারি চাল অবৈধভাবে কেনার অভিযোগে আমজাদ হোসেন শাহীন নামে অভিযুক্ত সেই চাল ব্যবসায়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এফ এম সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর পরই তারা তদন্ত শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বগুড়ার গাবতলী থানার ওসি নুরুজ্জামান জানান, শুক্রবার সকালে খবর পাওয়া যায় যে, উপজেলার সাবেক পাড়া সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চাল এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে এবং চালগুলো ট্রাকে তোলা হচ্ছে। গোপনে এমন খবর পাওয়ার পর সকাল সোয়া ১০ টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ওই গুদাম থেকে বের করা ৫০ কেজি ওজনের ৩০০ বস্তা বা ১৫ মেট্রিক টন চাল একটি ট্রাকে তোলা হয়েছে। এভাবে সরকারি চাল গোপনে বিক্রির খবরে স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওই গুদাম কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের ওপর মারমুখি হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিত আমরা জনতার রোষানল থেকে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে আমাদের হেফাজতে নেই। তবে সরকারি চাল অবৈধভাবে কেনার অভিযোগে ধুনট উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের চাল ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন শাহীন নামে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আমরা গ্রেফতার করি।’
গুদামের চাল বিক্রির নেপথ্য কাহিনী জানতে চাইলে গাবতলী থানার ওসি নুরুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে যেটা জানা গেছে যে, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ধুনটের চাল ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন শাহীনের কাছে চালগুলো ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। আর শাহীন সেই চালগুলো সরকারি অন্য কোন গুদামে সরকারের বেঁধে দেওয়া ৩৬ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করবেন। তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে বিক্রি করা চালগুলো পরবর্তীতে হয়তো কাগজে-কলমে নষ্ট বলে দেখানো হতো।’ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে গ্রেফতার কিংবা আটকের কথা নাকচ করে দিয়ে গাবতলী থানার ওসি নুরুজ্জামান বলেন, ‘তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাকে আটক বা গ্রেফতার করা যায় না। তাই আমরা তাকে আপাতত হেফাজতে রেখেছি। পরবর্তীতে যে নির্দেশনা পাওয়া যাবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এফ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পরই সেখানে গাবতলী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে পাঠানো হয়েছে এবং ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত গুদাম কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close