জেলার খবর

সোনাতলায় নিখোঁজের এক বছর পর লাশ উদ্ধারঃ গ্রেফতার ৪

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধবেন- এই স্বপ্নে বিভোর রেহেনা খাতুন নামে এক নারী তার স্বামী রফিকুল ইসলামকে খুন করিয়েছেন নিজ সন্তানকে দিয়ে। হত্যার মিশন সফল করতে কাজে লাগিয়েছেন প্রেমিক ও ভাগ্নেকেও। তবে প্রায় এক বছর আগে সেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েও প্রেমিকের সঙ্গে আর তার ঘর করা হয়নি। বরং তার স্থান হয়েছে কারাগারে। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার রাণীরপাড়া গ্রামে।
একটি জিডির সূত্র ধরে পুলিশ দেরিতে হলেও রেহেনা খাতুনের ওই নৃশংসতার কথা জানতে পেরে শুক্রবার দুপুরে গ্রামের পাশে জমিতে পুঁতে রাখা তার স্বামী রফিকুল ইসলামের (৪৭) পঁচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত রেহেনা খাতুন (৩৭), তার প্রেমিক একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মহিদুল ইসলাম (৪৭), ছেলে জসিম (১৮) ও ভাগ্নে তেকানিচুকাইনগর গ্রামের করিম আকন্দের ছেলে শাকিলকে (২১) গ্রেফতারও করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোনাতলা স্টেশন থেকে প্রায় ৪ কিলোামিটার দক্ষিণে রাণীরপাড়া গ্রামের পাশে রেহেনা খাতুনের প্রেমিক মহিদুলের বর্গা নেওয়া জমিতে রফিকুল ইসলামের লাশ পুঁতে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে আটকের পর মহিদুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সকাল ১১ টায় রেললাইনের পাশে ওই জমিতে খনন শুরু করা হয়। বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রায় সোয়া দুই ঘন্টা ধরে খোঁড়াখুড়ির পর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রফিকুলের পঁচে যাওয়া লাশের সন্ধান মেলে। এসময় রাণীরপাড়া সহ আশ-পাশের কয়েক গ্রামের গ্রামে হাজার হাজার লোক সেখানে জড়ো হন। লাশটি উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য সেটি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সহকারি পুলিশ সুপার কুদরত-ই খুদা শুভ জানান, সোনাতলার পাকুল্লা গ্রামের আজাদ আলীর মেয়ে রেহেনা খাতুনের (৩৭) সঙ্গে অনেক আগে রাণীরপাড়া গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে মরিচ চাষী রফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। কয়েক বছর আগে একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মহিদুল ইসলামের সঙ্গে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রেহেনার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা দু’জন ঘর বাঁধা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তবে এক্ষেত্রে রফিকুল ইসলামকে পথের কাঁটা মনে করে তারা তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। যেহেতু প্রেমিক মহিদুল ইসলামের একার পক্ষে স্বামী রফিকুল ইসলামকে হত্যা করা সম্ভব নয় সেজন্য লোকবল বাড়ানোর জন্য রেহেনা খাতুন তার তৃতীয় সন্তান জসিম এবং আদরের ভাগ্নে শাকিলকেও সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। জসিম যেহেতু একটু সরল প্রকৃতির এবং ঠিকমত পড়ালেখা না করার কারণে ঘন ঘন বকুনি খেয়ে বাবার ওপর বিরক্ত তাই নিজের জন্মদাতাকে শায়েস্তা করার কাজে তাকে ব্যবহারের সুযোগটি নেন রেহেনা খাতুন।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৪ জুন রাতে রফিকুল যখন খেতে বসে তখন বেগুন ভর্তার মধ্যে মহিদুলের এনে দেওয়া ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন রেহেনা খাতুন। এরপর তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলে মহিদুল ও জসিম মিলে রফিকুলের বুকের ওপর উঠে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরবর্তীতে শাকিলকে ডেকে নিয়ে তারা তিনজন মিলে রফিকুলের লাশটি মরিচের বস্তায় ভরে মহিদুলের বর্গা নেওয়া জমিতে পুঁতে রেখে আসে।
শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার কুদরত-ই খুদা শুভ জানান, রফিকুল ইসলাম খুন হওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর ২০১৯ সালের ১ জুলাই তার বড় ভাই শফিকুল ইসলাম সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি তার ছোট ভাই রফিকুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, ‘গত ১৪ জুন থেকে তাকে পাওয় যাচ্ছে না।’ সহকারি পুলিশ সুপার কুদরত-ই খুদা শুভ জানান, ওই জিডির সূত্র ধরে তারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কয়েকদিন আগে মহিদুলের সঙ্গে রেহেনা খাতুনের পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি তারা জানতে পারেন। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমরা প্রথমে মহিদুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এক বছর আগে রফিকুল ইসলামকে খুন করার কথা স্বীকার করে। এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রেহেনা তার ছেলে জসিম ও ভাগ্নে শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়।’ মায়ের প্ররোচনায় বাবাকে খুন করার কারণে ছেলে জসিম কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জসিমের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু নিজ হাতে বাবাকে খুন করার কারণ সে মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েছে। যে কারণে তার আর পরীক্ষায় বসা হয়নি।’
সহকারি পুলিশ সুপার কুদরত-ই খুদা শুভ জানান, রফিকুল ইসলামের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার জিডিটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। বড় ভাই শফিকুল ইসলামকে বাদী করে মামলাটি দায়ের করা হবে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close