দেশের খবর

আয়েশা আক্তার লিজার প্রথম বিয়ে ডিভোর্স করায় এমপি

Spread the love

 

আজকের শেরপুর ডেস্ক: ‘উনি (এমপি এনামুল) আমাকে ইমপ্রেস করছে। ভালোবাসার জালে ফাঁসিয়ে প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স করিয়েছে। আমার আগের স্বামীকে প্রেসার ক্রিয়েটও করেছেন। দেশের বাইরে গিয়েও তাকে (আগের স্বামী) বলছে- তুমি লিজাকে ডিভোর্স করে দাও। আর কোনো ঝামেলা করবা না। তা না হলে আমি তোমার (লিজার প্রথম স্বামী) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।’
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সাথে সম্পর্ক, বিয়ে ও ঝামেলা নিয়ে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিও বার্তা এসব কথা বলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিকারী আয়েশা আক্তার লিজা।
ভিডিও’র শুরুতে লিজা বলেন, ‘আমি আয়েশা আক্তার লিজা। এমপি এনামুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী। এমপি এনামুলের সাথে আমার পরিচয় ফেসবুক থেকে। তিনিই আমাকে প্রথম নক করেন। তারপর আমাদের কথা হয়। দিনের পর দিন কথা হতে থাকে। একটা পর্যায়ে তিনি আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। আমি তার কথায় মুগ্ধ হয়ে যায়। তার প্রেমে পড়ে যাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার তখন হাজবেন্ড ছিল। আমি কাপড়ের বিজনেস করতাম। আমার আরডি মার্কেটে দুই তিনটে কাপড়ের দোকান ছিল। আমার একটি এনজিও ছিল। আমি যখন উনার প্রেমে পড়ে রিলেশনে জড়িয়ে পড়ি। তখন উনি আমাকে বলেন- আমি তোমাকে বিয়ে করবো। তুমি তোমার হাজবেন্ডকে ছেড়ে দাও। আমি উনার কথায় বিশ্বাস করে আমার স্বামীকে ডিভোর্স করে দেই। সেটা রিলেশনের তিন মাসের মাথায়।’
লিজা আরও বলেন, ‘আমি তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে হাজবেন্ডকে ডিভোর্স করি। তারপর উনি আমাকে উনার বাগমারার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। আমার এবং তার পরিবারের সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি আমাকে বিয়ে করেন।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আয়েশা আক্তার লিজা বলেন, ‘আমি তার সাথে এতোদিন সংসার করছি। তার ঢাকার বাসায় থাকছি। এখনও তার ঢাকার সরকারি বাড়ির চাবি আছে আমার কাছে। সেই বাড়িটা আমি একটা একটা জিনিস নিজের টাকা দিয়ে সাজিয়েছি। সেখানে আমি আমার সংসার সাজিয়ে গুছিয়ে তুলেছিলাম।’
‘সে আমাকে বলেছিল- সব বিজনেস ছেড়ে দিতে হবে। আমি কাপড়ের সব ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। তবে ব্যাংকে আমার বড় লোন আছে। সেই টাকা আজ আমি শোধ করতে পারছি না বলে আমার নামে মামলা হয়েছে। ৮ বছর তার সংসার করেছি, সে আমাকে কিছুই করে দেইনি’ যোগ করেন তিনি।

লিজা বলেন, ‘আমি টাকা পয়সার জন্য না, শুধুমাত্র তাকে ভালোবেসে এতোটা দিন এতোটা সময় তার সাথে কাটিয়েছি। এখন সে আমাকে বলে তুমি প্রোস্টিটিউট, জঙ্গিবাদ। আমি নামাজ-কালাম পড়ি সেজন্য জঙ্গিবাদ বলে।’

তিনি বলেন, ‘এনামুল যে আমাকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়েছে, সেটা আপনার যাচাই করে দেখতে পারেন। আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে- আমি আরও বিয়ে করেছি। আপনারা চাইলে আমার সাবেক স্বামীর কাছেও জিজ্ঞেস করতে পারেন। সে এখন দ্বিতীয় বিয়ে করেছে, সংসার করছে। সে রাজশাহীর ছেলে। তেরোখাদিয়া এলাকায় তার বাসা। সে দেশের বাইরে থাকতো। ২০১০ সালে তার সাথে আমার প্রথম বিয়ে হয়। সে মাঝে-মধ্যে আসতো আবার চলে যেত। সিরিয়াতে হোটেল ম্যানেজমেন্ট হিসেবে জব করতো।’

এমপি এনামুলের বিরুদ্ধে ভ্রুণ হত্যা, নারী নির্যাতন ও প্রতারণার মামলা করবেন জানিয়ে লিজা বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো, একজন নারী হিসেবে বিচার চাইবো। আমার বিশ্বাস তিনি নিশ্চয় একজন নারী হয়ে নারীর সুবিচার পেতে সহযোগিতা করবেন।’

প্রসঙ্গত, আয়েশা আক্তার লিজার বাড়ি রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায়। তিনি একজন নারী উদ্যোক্তা। তার অভিযোগ- কয়েকবছর আগে এমপি এনামুল হক তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং সম্পর্কে জড়ায়। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর তারা ১১ মে ২০১৮ তারিখে রেজিস্ট্রি করে। এর আগে তারা পারিবারিকভাবে বিয়েও করেছিল।

তবে এখন আর তাকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না এমপি এনামুল। বাধ্য হয়ে তিনি গেল কয়েকদিন সামাজিক মাধ্যমে নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরছেন। এরপর থেকে এমপি এনামুলের লোকজন তাকে হত্যা ও মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন।

তবে এতোদিন লিজা এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও চুপ ছিলেন এমপি। গতকাল তিনিও মুখ খুলেছিলেন। গণমাধ্যমে এমপি এনামুল বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই মহিলাকে আমি ২০১৮ সালে বিয়ে করেছিলাম। ডিভোর্স করেছি গত মাসে। এখন কী বক্তব্য থাকতে পারে। এখন যেগুলো করছে, সেটা চাঁদাবাজির জন্য করছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close