দেশের খবর

সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

Spread the love

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় যুবলীগ নেতার গুলিতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার বিকেলে সংঘর্ষ চলাকলে মাইক্রোবাসসহ ১৫টি মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সংবাদ পেয়ে সাবেক মন্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাসসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জোকনালা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী শিক্ষিকা উম্মে জহুরার একটি পরিত্যক্ত পুকুর পরিষ্কার করা নিয়ে প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামের দ্বন্দ্ব হয়।
এ নিয়ে শনিবার বিকেল ৩টায় জোকনালা বাজারে সালিস বৈঠক ডাকা হয়। সালিস বৈঠক বসার প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই রফিকুল ইসলামের পক্ষে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার নেতৃত্বে অর্ধশত মোটরসাইকেল নিয়ে একদল যুবক ওই এলাকায় যায়। সালিশ কেন বিলম্ব এ নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে গালিগালাজ করে মোটরসাইকেল নিয়ে ফিরে সগুনা চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে শিক্ষিকা উম্মে জহুরার পক্ষে নিকটাত্মীয় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আশিকুর রহমান লাজুক বিশ্বাসের নেতৃত্বে শতাধিক লোক মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় সগুনা মোড়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। তখন সাইড দেয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজার গুলিতে লাজুক বিশ্বাসের পক্ষের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়াও সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। পরে উত্তেজিত জনতা সাজ্জাদুল হক রেজার দলের একটি মাইক্রোবাসসহ প্রায় ১০-১৫টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।
পরে খবর পেয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস সহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আহতদের মধ্যে সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামাল আহমেদকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় ড্যাফোডিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে বেলকুচি থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গুলির বিষয়টি তদন্ত চলছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close