স্থানীয় খবর

সাংবাদিক মোজাম্মেল হক তালুকদার কে যেমন দেখেছি

Spread the love

“মুন্সী সাইফুল বারী ডাবলু”
উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত সাংবাদিক বগুড়া ৫ আসনের সাবেক এমপি আমান উল্লাহ খানের সম্পাদনায় বগুড়া থেকে দৈনিক বাংলাদেশ পুনঃ প্রকাশ হওয়ার পর ১৯৮৭ সালের শেষের দিকে ষ্টাফ রিপোর্টার হিসাবে আমি দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকায় যোগদান করি। তখন সাংবাদিক জগতের মহীরুহ দৈনিক বাংলাদেশ এর সম্পাদক আমান উল্লাহ খান, নির্বাহী সম্পাদক যাহেদুর রহমান যাদু , বার্তা সম্পাদক অধ্যাপক মোজাম্মেল হক তালুকদার, সহকারী সম্পাদক অরবিন্দ তালুকদার, সহকারী সম্পাদক দীপংকর চক্রবর্তী,চীফ রিপোর্টার মহসিন আলী রাজু,ষ্টাফ রিপোর্টার সবুর শাহ লোটাস, ইকবাল মোর্শেদ রিপন,আরও কিছুদিন পরে সাহসী সাংবাদিক মীর্জা সেলিম রেজা, ফটো সাংবাদিক নূরুল আলম বাদল,আছাফ উদ্দৌলা ডিউক, লিয়াকত আলী খান বকুল সহ অনেক সহকর্মী ছিলাম। অনেক কে চিনতাম আবার অনেককেই চিনতাম না। এরপর আব্দুল মোত্তালিব মানিক, সাইদুজ্জামান সরকার তারা, সিরাজুল ইসলামের কথা মনে পড়ে। বগুড়া জেলা স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তাজমিলুর রহমান , সাংবাদিক আইয়ুব উদ্দৌলা বেনু, আশরাফুল ইসলাম রতন, আরিফুর রহমান আরিফ দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।প্রুফ রিডিং করতেন আজিজার রহমান তাজ, সুকুমার দাস। ঐ সময় লেটার প্রেসে পত্রিকা ছাপা হতো। লেটার কম্পোজ করতো কম্পোজিটার আফজাল হোসেন,জাহাঙ্গীর হোসেন সহ অনেকেই। তখন দৈনিক বাংলাদেশ এর রমরমা মার্কেট। আমি কাজ করতাম দিনের শিফটে,মফস্বল সম্পাদক হিসেবে মফস্বলের পাতা দেখতাম,তাই অনেকের সাথেই আমার দেখা হতো না। তবে মাঝে মধ্যে বার্তা সম্পাদক অধ্যাপক মোজাম্মেল হক তালুকদার শুকলু ভাইয়ের সাথে দেখা হতো। তিনি নিজেই প্রাইভেট কার ড্রাইভ করে পত্রিকা অফিসে আসতেন। তার আচরণ ছিল খুবই সুন্দর, তিনি পত্রিকা অফিসে এসেই সকলের খোঁজ খবর নিতেন। তিনি বয়সে আমার চেয়ে অনেক বড় হলেও আমাকে বলতেন এই সাইফুল বারী কেমন আছেন। তিনি পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। মাঝে মধ্যে আমাদের কাছে দেশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতেন। তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হলেও তার মধ্যে আমি কখনও কোন অহংকার দেখিনি। তার পিতা মরহুম সিরাজুল হক তালুকদার ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমপি) ছোট ভাই হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু একাধিকবার এমপি ছিলেন। অধ্যাপক মোজাম্মেল হক তালুকদার শুকলু এর চালচলনে পিতা বা ভাইয়ের কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায় নি। আমরা মাঝে মধ্যে ঠাট্টা করে তাকে বলতাম আপনার ভাইতো বগুড়ার পাওয়ার ফুল এমপি। আপনি ইচ্ছা করলে তো অনেক কিছুই করতে পারেন। তিনি হেসে উড়িয়ে বলতেন রাখেন তো ওসব পাওয়ার দিয়ে কি হবে আল্লাহতালাহ আমাকে এমনিতো অনেক ভাল রেখেছেন। তিনি আমাদেরকেও পরামর্শ দিতেন সৎভাবে জীবন যাপন করার জন্য। তার মধ্যে কোন লোভ লালসা ছিল বলে আমার মনে হয়নি। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন ভদ্রলোক। দৈনিক বাংলাদেশ এর পর ১৯৯৩ সালে আমি দৈনিক উত্তরবার্তা পত্রিকায় যোগদান করি। তারপর বগুড়া প্রেসক্লাবের একজন সদস্য হিসেবে প্রেসক্লাবের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মোজাম্মেল হক তালুকদার শুকলু ভাইয়ের সাথে আমার দেখা সাক্ষাৎ হলে শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি আমাদের খোঁজ খবর নিতেন। সব সময়ই তিনি হাঁসি মুখে কথা বলতেন। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমীন ছুম্মা আমীন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close