বিদেশের খবর

করোনায় বিশ্বে আক্রান্ত প্রায় ৭৪ লাখ, মৃত্যু ৪ লাখ ১৬ হাজার

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: বিশ্বে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) প্রায় ৭৪ লাখ মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজারের বেশী মানুষের। গত ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহানে শুরু হওয়া করোনার সংক্রমণ বিশ্বের ২১৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখনো কার্যকর কোন প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) আবিস্কার না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানীসহ বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো প্রাণঘাতি এ ভাইরাসটির সংক্রমণ মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। ঠেকানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিসংখ্যান প্রদানকারী নির্ভরযোগ্য সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের ওয়েবসাইট থেকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টায় সংগৃহীত তথ্যানুযায়ি, করোনায় এ পর্যন্ত বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ৭৩ লাখ ৯২ হাজার ৮৯৮ জন মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ১২৪ জনের। তবে সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৭ লাখ ২ হাজার ১৪৪ জন মানুষ।
করোনা সংক্রমণের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় যথাক্রমে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ভারত, ইতালি, পেরু, জার্মানি ও ইরান। মৃত্যুর হিসেবে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, ইতালি ও ফ্রান্স। করোনার উৎসস্থল চীন আছে সংক্রমণ তালিকার ১৮ নম্বরে, বাংলাদেশের অবস্থান ২০ নম্বরে।
উন্নত দেশগুলো করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কারে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। চলছে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ। তবে ভ্যাকসিন আবিস্কারের বিগত পরিসংখ্যান বলছে, নতুন কোন ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বা নির্মূলে কার্যকার ভ্যাকসিন আবিস্কার করতে ৬ থেকে ১২ মাস সময় লাগে। সে ক্ষেত্রে প্রমাণিত প্রতিষেধক বাজারে পেতে বিশ্ববাসীকে আগামী (২০২১) বছর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে।
সংক্রমণ তালিকার ১১ থেকে ১৫ নম্বর অবস্থানে আছে যথাক্রমে তুরস্ক, ফ্রান্স, চিলি, মেস্কিকো ও পাকিস্তান। ১৬ থেকে ২০ নম্বর অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সৌদি আরব, কানাডা, চায়না, বাংলাদেশ ও কাতার।
আক্রান্ত ও মৃত্যুর শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৬৩৫ জন মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৩৯ জনের। আক্রান্তের হিসেবে মৃত্যুর হার ১৩ শতাংশ। আয়তনে চতুর্থ এবং জনসংখ্যায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটি ভাইরাসটি প্রতিরোধে হিমশিম খাচ্ছে। প্রায় ৯৩ লাখ ৩৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দেশ যুক্তরাষ্ট্র ৩৩ কোটি মানুষের বসবাস। দেশটিতে করোনা শনাক্তের জন্য মোট ২ কোটি ২৩ লাখ ৫৫ হাজার ১১৬ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৫২ জন মানুষ।
সংক্রমণ তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫৬১, মৃত্যু হয়েছে ৩৮ হাজার ৭০১ জনের। তৃতীয় স্থানে অবস্থানরত রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫৭, মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৮ জনের।
যুক্তরাজ্যে (ব্রিটেন) আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ১৪৩, মৃত্যু হয়েছে ৪১ হাজার ১২৮ জনের। স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩৬০, মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ১৩৬ জনের।
ভারত আছে সংক্রমণ তালিকার ৬ নম্বরে। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৩, মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ১০৬ জনের। ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬৩, মৃত্যু হয়েছে ৩৪ হাজার ১১৪ জনের। পেরুতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৩ হাজার ৭৩৬, মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৭৩৮ জনের। জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৬৬, মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৮৪০ জনের। তালিকার দশ নম্বরে থাকা ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩৮, মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৫০৬ জনের।
ফ্রান্স সংক্রমণ তালিকার ১২ নম্বরে থাকলেও মৃত্যুর তালিকায় দেশটির অবস্থান ৫ নম্বরে। ফ্রান্সে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৩৬, মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৩১৯ জনের।
করোনার উৎসস্থল চীন চলে গেছে সংক্রমণ তালিকার ১৮ নম্বরে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৪৬, মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৪ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৫৭ জন।
বাংলাদেশ আছে সংক্রমণ তালিকার ১৯ নম্বরে। বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৮৬৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১২ জনের। মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ হাজার ৯০০ জন। বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে প্রতিদিনই সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। ১৬ কোটির বেশী মানুষের এই দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্তের পরীক্ষা করা হয়েছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৬০টি।
তালিকার ২০ নম্বরে থাকা কাতারে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৫৯৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬৬ জনের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণকে পার্ল হারবার এবং টুইন টাওয়ারে হামলার চেয়েও মারাত্মক বলে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প ও তার মিত্ররা করোনা মাহামারীর জন্য সরাসরি চীনকে দায়ী করছে। তবে চীন বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নভেল (নতুন) করোনাভাইরাসের উৎস চীনের গবেষণাগার নাকি প্রাকৃতিকভাবেই এর উৎপত্তি; বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে একজোট হওয়া একশ’রও বেশী দেশের জোরালো দাবির মুখে তাতে সম্মত হয়েছে চীন। তবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, তদন্তটি বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার নেতৃত্বে হওয়া প্রয়োজন।
পাঁচ মাসে প্রাণঘাতি এ ভাইরাসের সংক্রমণে থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। লকডাউনে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। সংক্রমণ কিছুট নিয়ন্ত্রণে আসায় কয়েকটি দেশ এবং জীবন ও জীবিকার তাগিদে বেশ কিছু দেশ লকডাউন শিথিল করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি দেশে সংক্রমণ আবার বেড়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে খুব সতর্কতার সঙ্গে লকডাউন এবং অন্যান্য বিধি-নিষেধ ধারাবাহিকভাবে শিথিল করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close