দেশের খবর

চলমান ‘শুদ্ধি’ অভিযান পরবর্তী টার্গেট নিয়ে ধোঁয়াশা

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: ক্যাসিনোবিরোধী ও ‘শুদ্ধি’ অভিযানের এক মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর অভিযান শুরু হয়। এক মাসে অনেক রাঘববোয়ালের সাম্রাজ্য তছনছ হয়ে গেছে। অনেকের ভিত নড়বড়ে। তবে কেউ কেউ এখনও রয়েছেন বহাল তবিয়তে। কেউ আবার গ্রেপ্তার এড়াতে দেশে ফিরছেন না। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর শুরু হয় এই শুদ্ধি অভিযান।
ক্যাসিনো কারবারিদের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত সেখানে সীমিত থাকেনি। এরই মধ্যে এই অভিযানে প্রভাবশালী ঠিকাদার, কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযান শুরুর পরপরই দুর্নীতিবাজদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শঙ্কা এখনও কাটেনি। তবে অভিযানের পরবর্তী টার্গেট নিয়ে সর্বত্র এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। কোথায় গিয়ে থামবে এই অভিযান তা নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনা। এমনকি অভিযানের পরিধি নিয়ে রয়েছে নানা মত।
প্রশাসনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে আভাস মিলেছে, শুদ্ধি অভিযান চলবে। আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হবে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ নেতাদের বাইরেও বিভিন্ন সরকারি পদে বসে যারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, ঢাকার বাইরেও যারা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদেরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গত ৭ সেপ্টেম্বর দলের যৌথ সভায় দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেন। এরপর দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সভায় যুবলীগের দুই নেতার সমালোচনা করা হয়। এর পাঁচ দিনের মাথায় ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দণি যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়।
পুলিশ ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩০টি কাব ও বারে অভিযান চালানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজনের বাসায় তল্লাশি করা হয়। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত যুবলীগ দেিণর বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে ঘিরে নানা নাটকীয় ঘটনাও ঘটে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি সহ নানা অভিযোগের কারণে আলোচনায় আসে সম্রাটের নাম।
চলমান অভিযানে সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান। এরপর তার মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে সাত কোটি টাকার চেক, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। মিজান গ্রেপ্তারের পর গত এক সপ্তাহে আলোচিত-সমালোচিত কাউকে গ্রেপ্তার করতে দেখা যায়নি।
২০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় ঠিকাদার জি কে শামীমকে। এ সময় তার সাত দেহরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে গ্রেপ্তার হন কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা সফিকুল আলম ফিরোজ। এ ছাড়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হন অনলাইন ক্যাসিনো কারবারি সেলিম প্রধান, আক্তারুজ্জামান, রোকন মিয়া, ওয়ান্ডারার্স কাবের সাইফুল ইসলাম, তুহিন মুন্সী ও নবীর হোসেন। এ পর্যন্ত র‌্যাব দেশি-বিদেশি মুদ্রাসহ আট কোটি ৪৫ লাখ টাকা জব্দ করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৬৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার এফডিআর, ১৩২টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও ছয় কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেক। আরও জব্দ করা হয় আট কেজি স্বর্ণ। এখন পর্যন্ত বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ২৫টি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ইয়াবা, বিদেশি মদ ও অন্যান্য মাদক আটক করা হয়। খালেদ ও সম্রাটের কার্যালয় থেকে টর্চার সেলে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১১টি কাবে অভিযান চালায় র‌্যাব।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ফৌজদারি অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই ভালো ব্যাপার। এটাকে তো স্বাগত জানাতেই হয়। তবে সরকারের কাজই হলো জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া। অসামাজিক কাজ বা আইন বিরুদ্ধ কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সে েেত্র ঠিক কাজটিই করছে সরকার। এটা চালিয়ে যেতে হবে। অতীতে কখনও এমন কার্যক্রম দেখা যায়নি। তাই এ অভিযানকে এক মাসে মূল্যায়নের সুযোগ নেই। এক মাসে অভিযানের গতি শ্নথ হয়ে পড়েছে কি-না তা তুলনা করার কোনো মাপকাঠিও নেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close