দেশের খবর

ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে মোবাইল ফোন টাওয়ার অপসারণে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার থেকে বেরোনো উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় (রেডিয়েশন) বিকিরণ স্বাস্থ্যের জন্য তিকর হওয়ায় সব স্পর্শকাতর স্থান থেকে মোবাইল টাওয়ার দ্রæত সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত রায় প্রদানকারী বেঞ্চের স্বারের পর এ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে স্পর্শকাতর জায়গা বলতে ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা ছাড়াও হাসপাতাল, স্কুল ও কলেজকে বোঝানো হয়েছে।
২০১৭ সালের মার্চে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে হাইকোর্টকে জানানো হয়, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার থেকে বেরোনো তেজস্ক্রিয় (রেডিয়েশন) বিকিরণ উচ্চমাত্রার। যা স্বাস্থ্যের জন্য তিকর। এ প্রোপটে কী পদপে নেওয়া হয়েছে, তা ওই বছরের ২৮ মার্চের মধ্যে আদালতকে জানাতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’র (এইচআরপিবি) করা রিট আবেদনের পরিপ্রেেিত ওই প্রতিবেদন দেওয়া হয়। আদালতে রিট আবেদনের পে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। বিটিআরসির পে ছিলেন খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
হাইকোর্টের নির্দেশনার পর গঠিত কমিটি মতিঝিল, গুলশান ও মিরপুর এলাকায় ছয়টি মোবাইল কম্পানির ১৮ টি টাওয়ারের (প্রতিটির তিনটি করে) তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মাপে। এসব টাওয়ারের মধ্যে মাত্র একটিতে মাত্রাতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া যায় বলে সাবকমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ কমিটি যে সুপারিশ তুলে ধরে তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আদালতে উপস্থাপন করে। ওই প্রতিবেদনে রেডিয়েশনের মাত্রা তুলে ধরা হয়।
এরপর আদালত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি করতে স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দেন। ওই কমিটিতে বিজ্ঞানী, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অধ্যাপক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং আণবিক শক্তি কমিশনের প্রতিনিধিদের রাখতে বলা হয়। এ কমিটিকে মোবাইল টাওয়ার থেকে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পরিবেশগত প্রভাব পরীা-নিরীা করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত মোবাইল কোম্পানির টাওয়ারগুলো থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন বন্ধে কার্যকর পদপে নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই রুলের দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২৫ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। রায়ে কয়েক দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সমীা করে দেশের টাওয়ারগুলোর তিকর রেডিয়েশনের বিষয়ে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সমীা প্রতিবেদন দেখে আদালত তিকর রেডিয়েশন ছড়ানো মোবাইল টাওয়ার অপসারণের বিষয়ে আদেশ দেবেন বলেও মন্তব্য করেন আদালত। একইসঙ্গে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার থেকে নিঃসৃত তিকর বিকিরণের (রেডিয়েশন) বিষয়ে সমীা করে প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close