স্বাস্থ্য কথা

করলার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: করলার তিতা স্বাদ সবার পছন্দের না হলেও এর অনেক গুণ। আমরা বেশিরভাগ মানুষই করলা বা উচ্ছে তরকারি, ভাঁজি এবং ভর্তা হিসাবে খেয়ে থাকি। নিয়মিত করলা খাওয়ার অভ্যাস করলে পাওয়া যায় প্রচুর পুষ্টি উপাদান সেই সঙ্গে নানান রকমের রোগ বালাই থেকে মুক্তি। করলায় রয়েছে পালং শাকের চেয়ে দ্বিগুণ ক্যালশিয়াম এবং কলার চেয়েও দ্বিগুণ পটাশিয়াম।
করলায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, এন্টি অক্সিডেন্ট, লৌহ এবং ফাইবার রয়েছে। যা সাধারণত বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতে সহায়তা করে থাকে। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় আছে জলীয় অংশ ৯২.২ গ্রাম, শর্করা ৪.৩ গ্রাম, আমিষ ২.৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম, আয়রণ ১.৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১- ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.০২ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১৪৫০ মাইক্রোগ্রাম ও খাদ্যশক্তি ২৮ ক্যালরি। তাই খাদ্যতালিকায় নিয়মিত করলা রাখুন।
এবার জেনে নিন, করলার উপকারিতা সম্পর্কে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে
করলা ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কমিয়ে রক্ত থেকে শরীরের কোষগুলোর সুগার গ্রহণ করার মতা বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া করলা শরীরের কোষের ভিতর প্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের সুগার কমে যায়। ডায়াবেটিসের রোগীরা রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত করলা খেতে পারেন।
রক্তকে বিশুদ্ধ করে
করলা রক্তের দূষিত উপাদান দূর করে রক্তকে বিশুদ্ধ করে। তাই নিয়মিত করলা খেলে রক্তের দূষিত উপাদান দূর হয়ে যায় এবং এলার্জি জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
চোখের সমস্যা
করলায় আছে প্রচুর পরিমানে বিটা ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে বিটা ক্যারোটিন খুবই উপকারী। তাই যাদের চোখের সমস্যা আছে তাঁরা নিয়মিত করলা খেলে চোখ ভালো থাকবে।
কৃমিনাশক
করলাতে থাকা এন্হেলমিন্টক কম্পাউন্ডস কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। এজন্য খালি পেটে করলার জুস পান করা উত্তম।
তারুণ্য ধরে রাখে করলা
নিয়মিত করলা খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। করলার ভিটামিন সি ত্বক ও চুল ভালো রাখে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং রক্ত পরিষ্কার করে। করলার সবচেয়ে বড় গুণ এটি বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। তাই করলা খেয়ে ধরে রাখুন তারুণ্য।
রোগ প্রতিরোধ মতা বাড়ায়
যে কোনো ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে লড়তে সাহায্য করে করলা। নিয়মিত করলা খেলে সর্দি,কাশি, মৌসুমী জ্বর ও অন্যান্য ছোটখাটো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
ক্যানসার প্রতিরোধী
করলায় রয়েছে রোগ প্রতিরোধমতা সৃষ্টিকারী লুটিন এবং ক্যানসার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন। গবেষকদের মতে করলা ক্যান্সাররোধী হিসাবে কাজ করে, যেমন করলা লিভার ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, মেলানোমা ইত্যাদি প্রতিরোধ করে থাকে।
হার্ট অ্যাটাক রোধ করে
করলা রক্তের ট্রাইগিøসারাইড কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল বাড়ায় । এর ফলে রক্তনালিতে চর্বি জমতে পারেনা এবং হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা কমে যায়।
শ্বাসরোগ দূর করে
করলার রসে আছে অনেক গুণ। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের দূষণ দূর করে। হজমপ্রক্রিয়ায় গতি বাড়ায়। পানির সঙ্গে মধু ও করলার রস মিশিয়ে খেলে অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস ও গলার প্রদাহে উপকার পাওয়া যায়।
হজমে সাহায্য করে
করলার বড় গুণ হচ্ছে এটি হজমের জন্য উপকারী। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এর ভূমিকা আছে। পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা দূর করতে নিয়মিত করলা খেতে পারেন।
ওজন কমাতে সাহায্য করে
করলা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর বড় উৎস, যা দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সম।
এছাড়া করলা খাবারে রুচি আনে, বাতের ব্যাথা নিরাময় করে, করলার রস শক্তিবর্ধক হিসেবেও কাজ করে। এটি স্ট্যামিনা বাড়ানোর পাশাপাশি ভালো ঘুমে সহায়তা করে। করলা হিমোগেøাবিন তৈরি করতে সাহায্য করে কারন করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। সুতরাং করলা খান সুস্থ্য সুন্দর জীবন যাপন করুন।
সতর্কতা
একদিনে অতিরিক্ত(২ টার বেশি) পরিমানে করলা না খাওয়াই ভাল। তলপেটে সামান্য ব্যথা হতে পারে। গর্ভবতী মহিলারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলার রস খাবেন। (ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close