দেশের খবর

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ফিরে এসেছে: শেখ হাসিনা

Spread the love


শেরপুর ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ হারিয়ে গিয়েছিল, আজকে তা আবার ফিরে এসেছে। ৭৫-এ আমরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ হারিয়ে ফেলেছিলাম। সে আদর্শ আজকে আবার ফিরে এসেছে। জাতির পিতার সেই শিক্ষা নিয়েই বাংলাদেশ সারা বিশ্বের বুকে আজকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এবং উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত লাভ করবে।
সোমবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় ছয় দফা দিবস উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ডকৃত এ ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে।
ঐতিহাসিক ৬ দফার ভেতরেই স্বাধীনতার ১ দফা নিহিত ছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ৬ দফার ভেতরেই এক দফা নিহিত ছিল, সেটা অন্তত আমরা পরিবারের সদস্যরা জানতাম। তিনি সব সময় বলতেন ৬ দফা মানেই ১ দফা। অর্থাৎ স্বাধীনতা। আজকে আমরা সেই স্বাধীন জাতি।

কারাবন্দি বঙ্গবন্ধুর মুক্তি এবং ৬ দফার দাবিতে আন্দোলন করতে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন শহীদের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই ৭ জুনে রক্তের অক্ষরে এই ৬ দফা দাবির কথা লিখে গিয়েছিল বলেই এই ৬ দফার ভিত্তিতে নির্বাচন এবং আমাদের যুদ্ধে বিজয়। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। সেই হরতালে অনেক মানুষকে তারা হত্যা করেছে। ১১ জন সেখানে জীবন দেন। রক্তের অক্ষরে ৬ দফা তারা লিখে যায়, আর যেই ৬ দফার ভিত্তিকে ৭০ এর নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে সমগ্র পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, যেটা পাকিস্তানিরা কোনদিনই আশা করেনি। এর পর অসহযোগ আন্দোলন, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ দেন। অসহযোগ আন্দোলন থেকে সশস্ত্র বিপ্লব, সশস্ত্র বিপ্লব থেকে বিজয় অর্জন আমরা করেছি।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ছাত্রজীবন থেকে এদেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন। বাঙালি জাতির একটা উন্নত জীবন পাবে, সুন্দর জীবন পাবে- এটাই তার আকাঙ্খা ছিল। তিনি সেটাই চেয়েছিলেন। তার সবসময় চিন্তা ছিল কিভাবে এ জাতিকে দুঃখ দারিদ্র থেকে মুক্তি দেবেন, ক্ষুধা-শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি দিয়ে একটা উন্নত জীবন দেবেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালির জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যে চিন্তা চেতনাগুলোর তার ভেতরে লালিত ছিল সেটাই প্রতিফলিত হয়েছিল ৬ দফা প্রণয়নের মাধ্যমে। আর সেটা তার আরো সুযোগ এসে গেলো ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে। যখন দেখা গেল এই ভূখন্ডের মানুষ সম্পূর্ণভাবেই নিরাপত্তাহীন। সেই সময় তিনি এই ৬ দফা দাবিটা উত্থাপন করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close