স্থানীয় খবর

শেরপুরে আমন ধানের ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ, কৃষক দিশেহারা

Spread the love


ষ্টাফ রির্পোটার: বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় আমন ধানের ক্ষেতে মাজরা পোকার ব্যাপক আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। বালাইনাশক প্রয়োগ করেও পোকাদমন করতে না পারায় ফলন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।
শেরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২২ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। এর মধ্যে ২১ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে চারা রোপনের ৩০ থেকে ৩৫ দিন পরপরই উপজেলার খামারকান্দি, খানপুর, মির্জাপুর, সুঘাট,সীমাবাড়ী, বিশালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে মাজরা পোকার আক্রমণ। ফলে ধানের ক্ষেতে শীষ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের উচরং গ্রামের কৃষক সোহেল রানা জানান, ধানক্ষেতে এ বছর মাজরা পোকার ব্যাপক আক্রমণ হয়েছে। ফলে ধানের শীষ পোকা খেয়ে ফেলছে।

পেচুঁল গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কয়েকবার কীটনাশক দিয়েছি। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। ফলে ফলন নিয়ে চিন্তায় আছি।
উপজেলার দক্ষিণ আমইন গ্রামের কৃষক মঞ্জু মিয়া জানান, এর আগে এত পোকার আক্রমণ দেখিনি। গত বছর কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়েছিল। এবার মাজরা পোকায় মাঠের পর মাঠ আক্রমণ হয়েছে।
উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বেলগাছী গ্রামের কৃষক মুন্টু মন্ডল, শামছুল হক জানান, এত পোকার আক্রমণ ২০ বছরেও দেখিনি। বেশ কয়েকবার দানাদার ও বিষ দিয়েছি কোন কাজ হচ্ছে না। বিঘার পর বিঘা জমিতে পোকার আক্রমণ রোধ করা যাচ্ছে না।
শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শরীফ হোসেন জানান, এবার ধানের ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা থেকে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পোকা দমনে পার্চিংসহ সঠিকভাবে সঠিকমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের জন্য উদ্ধুদ্ধ করা হচ্ছে।

উপজেলার সুঘাট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, সাধারণত ধানের চারা রোপনের ২৫দিন পর মাজরা পোকার আক্রমণ শুরু হয়। এজন্য ২০ দিন বয়সে ক্ষেতে কীটনাশক দিলে পোকার আক্রমণ হয় না। কিন্তু কৃষকেরা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে কীটনাশক না দেয়ায় ধানের ক্ষতির আশংকা বেশি থাকে।
এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম জানান, বিভিন্ন ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ হয়েছে তবে উপজেলায় কি পরিমাণ জমিতে পোকার আক্রমণ হয়েছে তা এই মুহুর্তে বলতে পারছি না।
শেরপুর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আছে। এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close