স্থানীয় খবর

শেরপুরে তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ নেই

Spread the love

নাহিদ আল মালেক: ‘তথ্য আমার অধিকার, জানতে হবে সবার’ এই শ্লোগানে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পালিত হবে আর্ন্তজাতিক তথ্য অধিকার দিবস। কিন্তু তথ্য অধিকার আইন থাকলেও বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এর প্রয়োগ নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করে সরকার। এই আইনে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সকল উন্নয়ন কার্যক্রম, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর তথ্য জনগণকে দেয়া বাধ্যতামুলক। এ আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী যে কোন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে বাংলাদেশের যে কোন নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবে। এছাড়া তথ্য অধিকার আইনের ৬ ধারায় কতিপয় তথ্য স্ব-প্রণোদিতভাবে অর্থাৎ কোনরূপ আবেদন ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগে প্রকাশ করা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে।
কিন্তু বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না প্রচারণার অভাব, নাগরিকদের সচেতনতার অভাব ও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারণে। অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্ব-প্রণোদিত তথ্য নেই। স্বপ্রণোদিত তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও শেরপুর উপজেলার অধিকাংশ সরকারি বেসরকারি ওয়েবপোর্টালে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হয় না। এছাড়া তথ্য অধিকার আইনে তথ্য জানার জন্য আবেদন এবং তথ্য প্রদানের হার প্রায় শুন্যের কোটায়।
শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছা. শামছুন্নাহার শিউলী জানান, বিগত অর্থ বছরে একজন গণমাধ্যম কর্মী ও সচেতন নাগরিক কমিটি আলাদাভাবে তথ্যের জন্য আবেদন করেছিল। তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে সেসব তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এ বছর এখনো কেউ তথ্যের আবেদন করেনি।
শেরপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন জানান, ভূমি অফিসে তথ্য জানার জন্য কেউ আবেদন করেনি। তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তথ্য চাইলে আমরা প্রদান করে থাকি।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ময়নুল ইসলাম জানান, আমি যোগ দেবার পর তথ্য অধিকার আইনে কেউ কোন আবেদন করেনি। তথ্য অধিকার আইনের রেজিষ্টার ফাঁকা পড়ে আছে। দুই কারণে এটা হতে পারে। সচেতনতার অভাব কিংবা তথ্য পাওয়ার কারণে আবেদন হয় না।
শেরপুর উপজেলার গণমাধ্যমকর্মী ও প্রভাষক রঞ্জন কুমার দে জানান, উপজেলায় অধিকাংশ দপ্তরে স্ব-প্রণোদিত তথ্য পাওয়া যায় না। তাছাড়া তথ্য দেয়া নির্ভর করে কর্তৃপক্ষের ইচ্ছার উপর। এর উপর রয়েছে দীর্ঘসুত্রিতা। যে কারণে নাগরিকেরা তথ্য অধিকার আইনে তথ্যের জন্য আবেদন করতে আগ্রহী নয়।
শেরপুর উপজেলা নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি ও সাপ্তাহিক আজকের শেরপুর পত্রিকার সম্পাদক আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু জানান, মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য তথ্য জানা অপরিহার্য। জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে, সরকারি বেসরকারি সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি কমবে। এজন্য তথ্য অধিকার আইনের প্রচার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও স্ব-প্রণোদিত তথ্য প্রকাশে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেও তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর মহৎ উদ্দেশ্য সফল হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close