রাজনীতি

বিএনপি একা হতে চাইছে?

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: অলস ঐক্যফ্রন্ট ও বিভক্ত ২০ দলীয় জোট এই দুই বাস্তবতাকে সঙ্গে নিয়েই রাজনীতি করছে বিএনপি। জোট দুটোর শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের চিন্তাভাবনা, জোটের কর্মসূচি ও বৈঠক থেকে দূরে অবস্থান নিয়ে মূলত একা থাকতে চাইছে বিএনপি। এই ভাবনার পেছনে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গটি যুক্ত বলে মনে করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক শীর্ষ নেতা। একইসঙ্গে সরকারের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়েও নানা ধরনের প্রশ্ন আছে তাদের।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, সময়ের তাগিদেই জোটের রাজনীতি স্থবির আছে। দলের সাংগঠনিক তৎপরতা জোরেশোরে চলছে বলে সম্মিলিত রাজনৈতিক কার্যক্রমও স্থগিত আছে— যা বিএনপির একক শক্তির উত্থানের সঙ্গে যুক্ত। নেতাদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করলেই কেবল জোটের রাজনীতি সক্রিয় হবে এবং প্রয়োজনে কর্মসূচি আসবে।

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপির দুটি মত পাওয়া গেছে। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত দলটির পরিচালনায় যারা আছেন, তাদের কাছে বিষয়টি কেবল খালেদা জিয়ার নির্দেশের অনুকরণ। যদিও স্থায়ী কমিটির স্বল্প সংখ্যক সদস্য মনে করেন, বিএনপির চেয়ারপারসনকে আন্দোলন করেই মুক্ত করতে হবে এবং আন্দোলনের বিষয়ে দলীয় প্রধানের ‘নির্দেশনা’ (কারামুক্তির আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ‘না’) নিয়েও তাদের প্রশ্ন আছে। কোনও কোনও নেতা প্রকাশ্যে এই অবস্থান স্পষ্ট করার কারণে বিএনপির জোট শরিকদের মধ্যেও বিভ্রান্তি আছে।
গত কয়েকদিনে বিএনপির রাজনীতি ও দলটির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের বিষয়ে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এই আলাপে বেরিয়ে এসেছে জোট বা ফ্রন্ট— বিএনপির এই বন্ধু দলগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ যেমন অস্থির, তেমনই সম্মিলিত সম্পর্ক নিয়েও তারা সন্দিহান।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চারটি শরিক দল। বিএনপির সঙ্গে এ জোটে গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য আছে। এই তিন দলের দুটিতেই ছোটখাটো সমস্যা লেগে আছে দীর্ঘদিন ধরে। গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন কয়েক মাস আগে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে বাদ দিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী এস এম কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করেন। নতুন এই সেক্রেটারি অবশ্য এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির একটিও বৈঠক ডাকতে পারেননি। এছাড়া, দলের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও জগলুল হায়দার আফ্রিকসহ কয়েকজন নেতা দলের ভেতরে একটি গ্রুপ তৈরি করেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে সমর্থকদের জায়গা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এই পটির বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়েই দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের অসন্তোষ রয়েছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টআ স ম রবের জেএসডি-তে ভাঙন ধরেছে। এরইমধ্যে দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতনের নেতৃত্বে এই ভাঙনের সৃষ্টি। ফ্রন্টের রাজনীতি নিয়ে সাবেক ছাত্রনেতা রতনের অবস্থানও এখন ফ্রন্টের চেয়ে অনেক আলাদা ও নতুন (রবের পার্টিতে ভাঙন, আলাদা কনভেনশন ডেকেছেন রতন)। মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যে নেতৃত্বের সমস্যা না থাকলেও বড় কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

বিএনপির রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ জোট— ২০ দলীয় জোট। ১৯৯৯ সালে যেটি চার দলীয় জোটের মাধ্যমে গঠিত হয়ে মতায়ও ছিল পাঁচ বছর। ২০১২ সালের পর জোটের পরিধি বাড়লেও কার্যকারিতা দিনে দিনে শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে। জোটের অন্যতম শরিক, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের কারণে জোটের প্রসঙ্গটি আলোচনায় থাকলেও কার্যকর সম্পর্ক থেকে বিরত রয়েছে বিএনপি। এছাড়া জোটের আরেক শরিক অলি আহমদের জাতীয় মুক্তিমঞ্চকে কেন্দ্র করেও অসন্তোষ রয়েছে দলটিতে। জোটের কার্যক্রমে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আব্বাসী-সেলিমের এলডিপির বিষয়টি (আব্বাসী-সেলিমের এলডিপির বর্ধিত সভা ৩০ নভেম্বর)। অলি আহমদের পুরনো এই সহযোগীদের জোটে রাখলে পরিস্থিতি কী হবে, তা এখনও অস্পষ্ট বলে জানান এলডিপির নতুন অংশের নেতারা।
২০ দলীয় জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক জামায়াত। এরইমধ্যে দলটির নতুন আমির হিসেবে সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। সহসাই তার শপথ প্রক্রিয়া ও দলটির নতুন সেক্রেটারিয়েট মনোনীত ( সেক্রেটারি জেনারেল পদ নিয়ে জামায়াতে ‘সিচুয়েশন ক্রিটিক্যাল’) করা হবে। সেেেত্র দলটিতে আসবে নতুন নেতৃত্ব— যাদের কারও বিরুদ্ধেই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার বিষয়টি যুক্ত নেই বলে জামায়াতে প্রচার আছে। যদিও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বরাবরই বলে এসেছেন, ‘একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের মা চাওয়া উচিত। দলটির রাজনীতির েেত্র তা ইতিবাচক হবে, বলেও একাধিকার জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ঘরানার এই অ্যাক্টিভিস্ট।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক শীর্ষ নেতা মনে করেন, বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন এসেছে, যা রহস্যজনক। বিশেষ করে কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন নেতারা। আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্টে জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলার শুনানি শুরু করবেন আদালত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close