স্থানীয় খবর

শেরপুরে ব্যতিক্রমী বিয়ের বাঁধনে আবদ্ধ হলেন দুই প্রতিবন্ধী

Spread the love


ষ্টাফ রিপোর্টারঃ দুইজনই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তারপরও জীবন সঙ্গী হিসাবে দুইজনই বেছে নিয়েছেন একে অপরকে। বগুড়ার শেরপুরে শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) আর্ন্তজাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে রহিমা ও মনিরুজ্জামানের ব্যতিক্রমী এই বিয়ে অনেকের নজর কেড়েছে।
শেরপুর সার্বিক উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত কাদের সুফিয়া অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের উদ্যোগে তাদের শুভ বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় শেরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম, শেরপুর পৌরসভার মেয়র জানে আলম খোকা, শেরপুর সার্বিক উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু, কাদের সুফিয়া অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উম্মে সুফিয়া বিউটিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শেরপুর সার্বিক উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি ও সাপ্তাহিক আজকের শেরপুর পত্রিকার সম্পাদক আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু জানান, কনে রহিমা খাতুন (২২) প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী। সে শহরের গোসাইপাড়ার মো. শাহজাহান আলীর মেয়ে। জন্ম থেকেই সে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সে দর্জির কাজ শিখেছি।
আর বর মো. মনিরুজ্জামান (২৫) শাজাহানপুর উপজেলার নগরহাট গ্রামের মো. আব্দুর রউফের ছেলে। সেও জন্ম থেকে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। সে স্থানীয় একটি ডেইরী ফার্মে চাকুরী করে।
তাদের যৌতুক বিহীন বিয়ে, বরযাত্রীর আপ্যায়ন এবং নতুন সংসারের জন্য আসবাবপত্র এসবের আয়োজন করা হয়েছে শেরপুর সার্বিক উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে। শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় দেড়শ বরযাত্রীকে আপ্যায়ন করা হয়। এছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাচগানের মাধ্যমে তাদের অভিনন্দিত করে। কাদের সুফিয়া অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উম্মে সুফিয়া বিউটি জানান এই বিবাহ আনুষ্ঠানে তার প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ময়নুল ইসলাম জানান, প্রতিবন্ধীদের সমাজে বোঝা হিসাবে দেখা হয়। কিন্তু এভাবে একে অপরের প্রতি যদি প্রতিবন্ধীরাই হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close