দেশের খবর

পদের লোভে শিক্ষা কার্যক্রম ছেড়ে লবিংয়ে ব্যস্ত শিক্ষকরা: রাষ্ট্রপতি

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যে খবর ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তা দেখে আচার্য হিসাবে আমি মর্মাহত হই। আজকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকগণ প্রশাসনের বিভিন্ন পদ পদবী পাওয়ার লোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ঠিকমতো অংশ না নিয়ে বিভিন্ন লবিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অনেকে আবার নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতেও পিছপা হন না। এটা অত্যন্ত অসম্মানের ও অমর্যাদাকর।’
শনিবার বিকাল ৫টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত সমাবর্তনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ভারতের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক রঞ্জন চক্রবর্তী।
শিকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সাধারণ মানুষ আপনাদেরকে সম্মান ও মর্যাদার উচ্চাসনেই দেখতে চায়। তাই ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার জন্য নীতি ও আদর্শের সঙ্গে আপস করবেন না। আপনাদের মর্যাদা আপনাদেরকে সমুন্নত রাখতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থের কাছে আদর্শ যাতে ভূলুণ্ঠিত না হয় সে দায়িত্ব আপনাদেরকে নিতে হবে। আপনারা রাজনৈতিকভাবেও খুবই সচেতন ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক মতাদর্শ ও চিন্তা-চেতনায় একজন আরেকজনের পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব যেন শিাপ্রতিষ্ঠানে শিার্থীদের উপর না পড়ে তাও নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা জ্ঞানের মশাল প্রজ্বলিত করেন। আদর্শ ছাড়া, প্রচেষ্টা ছাড়া, বৃত্তি ছাড়া, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস ছাড়া শিা মূল্যহীন। তাই একজন শিককে হতে হবে আদর্শ ও ন্যায়-নীতির প্রতীক।’
গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তোমরা গ্রাজুয়েটরা দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রগতি নির্ভর করছে তোমাদের ওপর। তোমাদের তারুণ্য জ্ঞান মেধা ও প্রজ্ঞা হবে দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে একজন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে সব সময় সত্য ও ন্যায়কে সমুন্নত রাখবে। নৈতিকতা দিয়ে দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। তোমরা কখনো অর্জিত ডিগ্রির মর্যাদা ব্যক্তিগত সম্মানবোধ আর নৈতিকতাকে ভূলুণ্ঠিত করবে না। বিবেকের কাছে কখনো পরাজিত হবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘এদেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে তোমাদের শিার ব্যয় ভার বহন করছে। তাদের কাছে তোমরা ঋণী। এখন সময় এসেছে সেই ঋণ পরিশোধ করার। তোমরা তোমাদের মেধা, কর্ম ও সততা দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণ করতে পারলে এই ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে। এ দেশ ও এ দেশের সাধারণ জনগণকে কখনো ভুলবে না। মনে রাখতে হবে বাঙালির শেকড় এই সাধারণ জনগণের মধ্যেই প্রোথিত।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close