জেলার খবর

শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: বগুড়ার শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে জমি জবরদখল ও হামলার অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের রোচাস রেস্টুরেন্টের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়। এ সংবাদ সম্মেলনে ভবানীপুর ইউনিয়নের আম্বইল বালেন্দা ও ভাদড়া গ্রামের অন্তত ১২ জন বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, আম্বইলে প্রায় ১০০ বছর আগে মুসলমানরা জমি ক্রয় করে বসবাস শুরু করে। বর্তমানে প্রায় ১০০ ঘর মুসলিম পরিবার রয়েছে। এদের অনেকে নতুন করে জমি ক্রয় করেছেন, অনেকে পৈত্রিক সূত্রে পেয়েছেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কিছু নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লোকজন আমাদের জমিগুলো জবরদখল শুরু করেন। আমাদের পুকুরের মাছ লুট করে নিয়ে যায়।
ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের ক্রয়কৃত জমি এই নৃগোষ্ঠীরা নিজেদের বলে দাবি করেন। কিন্তু তারা সামান্যতম বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বরং প্রতিবাদ করতে গেলে তারা সংখ্যালঘু বলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে গ্রামবাসীদের।
ইসমাইল হোসেন জানান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা শুধু জোর জবরদস্তির ওপর এই অত্যাচারগুলো করছে। আর তাদের মদদ দিচ্ছে কিছু স্বার্থান্বেষী সংস্থা। প্রশাসন দ্রুত এর সমাধান না করলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একই গ্রামের ওবায়দুর রহমান বলেন, এসব নিয়ে অনেকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ইউএনও মহোদয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের কাগজপত্র দাখিলের দশদিনের সময় দিয়েছেন। এই দশদিনের মধ্যে কোনো হামলা বা সংঘর্ষ না করার জন্য নির্দেশ দেন ইউএনও। কিন্তু তারপরেও ওরা ফারুক নামে এক প্রতিবন্ধী যুবকের ওপর হামলা চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব সমস্যার কথা উপস্থাপন করে সমাধানের দাবি জানান। তারা বলেন, ভূমিদস্যু কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত আমাদের বৈধ জমি পুনরুদ্ধার করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিচারও কামনা করেন। এ ছাড়াও আহত ভুক্তভোগীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তারা। এই সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মান আলী, হাতেমউজ্জমান, জসিমউদ্দিন, মো. সাইফুল, মো. সুমন মিয়াসহ আরও পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে শেরপুরের ইউএনও সানজিদা সুলতানা বলেন, আমরা দুপক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেছি। তাদের নিয়ে বসে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে। আশা করছি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টির সমাধান হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close