স্থানীয় খবর

শেরপুরে দপ্তরির বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

Spread the love

ষ্টাফ রির্পোটার: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চকপাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে একই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর মা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট অভিযোগ করেন। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা ডেকে ওই দপ্তরির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রেজুলেশনের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানানো হয়। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন দপ্তরি মাসুদ রানা। কোন প্রকার ছুটি ছাড়াই বিদ্যালয়েও অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি।
অভিযোগে জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর বিকেলে বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ওই ছাত্রীকে বাড়ি যেতে নিষেধ করেন দপ্তরি মাসুদ রানা। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার কৌশল শেখাবেন বলে জানান। কিন্তু বিদ্যালয় থেকে সবাই চলে গেলে ওই ছাত্রীকে স্কুলের একটি শ্রেণী কক্ষে নিয়ে দপ্তরি মাসুদ জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে চিৎকার শুরু করলে ওই ছাত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে বিষয়টি তার বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানো হলে পরদিন ১১ডিসেম্বর স্কুলের প্রধান শিক্ষককের নিকট অভিযোগ করা হয়।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী চক্র মাঠে নেমেছেন। এমনকি তারা সব মহলকে ম্যানেজ করতে মোটা অঙ্কের টাকাও লেনদেন করেন। ফলে ঘটনার পাঁচদিন অতিবাহিত হতে চললেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল লতিফ, ওসমান গণি, ফরিদ উদ্দিন সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, দ্রæততম সময়ের মধ্যে ওই লম্পট দপ্তরিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় তীব্র আন্দোলন কর্মসূচি নেয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক সুমিতা চ্যাটার্জ্জী জানান, ওই ছাত্রীর মা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। তবে কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই দপ্তরি মাসুদ রানা কোন প্রকার ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত রয়েছেন। তাই এসব বিষয় নিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ওই দপ্তরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে রেজুলেশন পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম মন্ডল এ প্রসঙ্গে বলেন, এহেন কর্মকাÐের জন্য দপ্তরি মাসুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু শুনতে পাচ্ছি- মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সব মহলই ম্যানেজ হয়ে গেছে। এমনকি তাদের পরামর্শেই বাদি-বিবাদী উভয়ই আত্মগোপনে চলে গেছেন। এটি অত্যান্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. মিনা খাতুন বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির লিখিত রেজুলেশন এখনও হাতে পাইনি। পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে অভিযুক্ত মাসুদ রানার বক্তব্য জানতে চাইলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, এ ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। এছাড়া পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকায় বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন না বলে জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close