দেশের খবর

যেভাবে প্রকাশ হলো স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন স্বাধীনতাবিরোধীর তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। এই তালিকায় রয়েছে একাত্তরের রাজাকার, আলবদর, আলশামসের কর্মীদের নাম। তালিকা প্রকাশের পর এরই মধ্যে এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এই তালিকা কিভাবে করা হলো খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বাধীনতাবিরোধীদের যে তালিকা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে, তা ১৯৭২ সালে তৈরি করা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বছরখানেক আগে রাজাকারের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয় সরকার। তখন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তালিকা চাওয়া হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা আছে কি না, তা খুঁজে দেখা হয়। খুঁজতে গিয়ে ধুলাবালির আস্তর পড়া কয়েকটি ফাইল পাওয়া যায়। ওই ফাইলগুলো থেকে উদ্ধার করা হয় ১০ হাজার ৭৮৯ জনের নাম। সেই নামগুলোই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকও একই কথা বলেছেন। তিনি গত রবিবার তালিকা প্রকাশের দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কোনো তালিকা তৈরি করছি না। যারা একাত্তরে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, সেসব পুরনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরতি ছিল। সেটাই প্রকাশ করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘তৎকালীন বিভিন্ন জেলার রেকর্ড রুম থেকে এবং ওই সময়ে বিজি প্রেসে ছাপানো তালিকাও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে আরো তালিকা প্রকাশ করা হবে।’
প্রকাশিত তালিকায় অনেকের বাবার নাম ও গ্রামের নাম-ঠিকানা না থাকায় সমালোচনা হচ্ছে। একটি গ্রামে একই নামে বেশ কিছু লোক থাকতে পারে। শুধু নাম প্রকাশের কারইে তালিকা নিয়ে এই সমালোচনা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও আইসিটি) আবু বকর ছিদ্দীক গতকাল সোমবার বিকেলে টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসব বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। আমাদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছিল। যেগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো পাঠানো হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পুরনো যে তালিকা পাওয়া গেছে সেটিতে কোনো ধরনের সংযোজন-বিয়োজন, কোনো ধরনের পরিবর্তন-পরিমার্জন না করেই পাঠিয়ে দেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে। এই তালিকা ১৯৭২ সালে কারা কিভাবে করেছিলেন, সে বিষয়ে বিশদ কিছু জানা যায়নি। এ ছাড়া বাহাত্তর সালে এই তালিকা ফাইলবন্দি হওয়ার পর অনেকবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। সামরিক সরকারও মতায় ছিল। তবে ওই ফাইলগুলো নিয়ে কেউ নাড়াচাড়া করেনি। ফলে ফাইলে নতুন কোনো বিষয়ও যুক্ত হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘পুরনো যে তালিকা পাওয়া গেছে, তাতে যেভাবে তথ্য রয়েছে সেভাবেই দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁরা রাজাকার, আলবদর, আলশামস ছিলেন তাঁরা ওই সময়ে অনেকে বয়স্ক ছিলেন। যাঁরা রাজনীতি সচেতন ছিলেন এবং পাকিস্তানের কাছ থেকে সুবিধা পাবেন—এমন চিন্তা করার মতো বয়স হয়েছিল তাঁরা রাজাকার, আলবদর, আলশামসে যোগ দিয়েছিলেন।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close