বিনোদন

চলচ্চিত্রের পর্দায় মুক্তিযুদ্ধ

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: আমাদের ইতিহাসের মহত্তম অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ। এর মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বিজয়ের ৪৮ বছর হয়ে গেছে। চলচ্চিত্র মানব জীবনের প্রতিচ্ছবিও বলা যায়। তবে এখনও মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রোপট নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে আমরা ফিরে যাই সেসব আগুনঝরা দিনগুলোতে। তাই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ বরাবরই উঠে এসেছে নানা সময়ে। মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখযোগ্য পাঁচটি চলচ্চিত্র নিয়েই আজকের এই আয়োজন।
ওরা ১১ জন
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। এর পরিচালক ছিলেন প্রখ্যাত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭২ সালে। এই ছবির অধিকাংশ কলাকুশলীই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধফেরত বীর মুক্তিযোদ্ধা। এর গল্প ১৯৭১ সালে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে গঠিত গেরিলাদলের পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এতে অভিনয় করেছেন খসরু, নায়করাজ রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, এটিএম শামসুজ্জামান, খলিলউল্লাহ খান প্রমুখ।
অরুণোদয়ের অগ্নিসাী
একই বছরে আরও তিনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। এর মধ্যে একটি হলো সুভাষ দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাী’। ১৯৭২ সালের ৮ নভেম্বর চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাী’র গল্পে উঠে আসে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নারী ধর্ষণ এবং প্রতিবাদে বাঙালিদের মুক্তি সংগ্রাম। চলচ্চিত্রে যুদ্ধের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। এর প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ববিতা, উজ্জল ও আনোয়ার হোসেন।
গেরিলা
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’। সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস অবলম্বনে এটি নির্মাণ করেছেন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, ফেরদৌস, এটিএম শামসুজ্জামান, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী ওয়াদুদ, শম্পা রেজা, গাজী রাকায়েত প্রমুখ।
আগুনের পরশমণি
প্রয়াত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’। নিজের লেখা উপন্যাস থেকেই ছবিটি নির্মাণ করেছেন তিনি এবং এটি তার পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিপাশা হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর, আবুল হায়াত, ডলি জহুরসহ আরও অনেকে। ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অনুদানের এই চলচ্চিত্রটি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’-এর আটটি বিভাগে পুরস্কার অর্জন করে।
আমার বন্ধু রাশেদ
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ মুক্তি পায় ২০১১ সালে। মুহম্মদ জাফর ইকবালের শিশুতোষ উপন্যাস থেকে এটি নির্মাণ করেছেন বরেণ্য পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম। একটি ছোট ছেলের চোখে দেখা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস উঠে এসেছে ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ চলচ্চিত্রে। এর প্রোপট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মফস্বলের একটা ছোট শহর আর চরিত্রগুলো হচ্ছে স্কুলের কয়েকজন ছাত্র। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চৌধুরী জাওয়াতা আফনান, রায়হান ইফতেশাম চৌধুরী, রিফায়েত জিন্নাত, ফাইয়াজ বিন জিয়া, লিখন রাহী, কাওসার আবেদিন, আরমান পারভেজ মুরাদ, হোমায়রা হিমু, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, গাজী রাকায়েত, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, ইনামুল হক প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close