বিদেশের খবর

ভারতে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে উত্তরপ্রদেশেই নিহত ১৬

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে ভারতের উত্তরপ্রদেশেই নিহত হয়েছেন ১৬ জন। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের পর বিােভ-সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১৩ জন। তার আগে বৃহস্পতিবার লখনউ-এ একজন এবং সম্বলে আরও দু’জন নিহত হন।
রাজ্যটির পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ১৬ জনের মধ্যে মীরটে ৫ জন, কানপুর, ফিরোজাবাদ ও বিজনোরে দু’জন করে, একজন করে নিহত হয়েছেন মুজাফফর, সম্বল, লখনউ, বারানসি এবং অন্যান্য এক।
বিক্ষোভকারী এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গত বৃহস্পতিবার থেকে আহত হয়েছেন ২৬৩ জন কর্মী। এ ঘটনায় ৭০৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাজ্যটির ১৩ টি জেলায় এই নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। যার মধ্যে রয়েছে সাহারানপুর, দেওবন্দ, শামলি, মুজাফফরনগর, মীরট, গাজিয়াবাদ, হাপুর, সম্বল, আলিগড়, বাহরাইচ, ফিরোজাবাদ, কানপুর, বাধোই এবং গোরখপুর।
যদিও পুলিশের গুলিতে এক জনের মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করেছেন উত্তরপ্রদেশের পুলিশের ডিজি ও.পি.সিং। তিনি বলেন “আমরা একটা বুলেটও খরচ করিনি।”
পুলিশের অন্য আরেক কর্মকর্তার দাবি, “যদি কোন গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা বিােভকারীরাই করেছে।”
নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) এর প্রতিবাদে এই মুহূর্তে গোটা ভারত উত্তাল। সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, প্রাণহানি কোনো কিছুই বাধ যায়নি। বিতর্কিত এই আইনের প্রতিবাদে প্রথম বিােভ শুরু হয় আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে। পরে তা পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, বেঙ্গালুরু হয়ে তা দেশের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি জায়গায় এই আইনের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে বিােভকারীরা।
বিােভে অংশ নেয় দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় শিার্থীরাও। উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি এই বিােভে আসামে মৃত্যু হয় চার জনের, বেঙ্গলুরুতে দু’জনের।
চলতি মাসের গোড়ার দিকেই ভারতের সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) পাস হয়। এরপর ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির স্বারের মধ্য দিয়ে তা আইনে পরিণত হয়-নাম হয় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)। সরকারের তরফে জানানো হয়, এই আইনের ফলে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান-মুসলিম অধ্যুষিত এই তিন দেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আসা সংখ্যালঘুদের (হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, পার্সি, জৈন, বৌদ্ধ) নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। বিরোধীদের বক্তব্য ধর্মীয় মেরুকরণের এই আইনকে কোনো ভাবেই তারা স্বাগত জানাবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close