দেশের খবর

কয়েন তুমি কার?

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: ধাতব মুদ্রা নিয়ে রীতিমতো বিপাকে আছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দেশে বর্তমানে পয়সা আকারে ধাতব মুদ্রা চালু আছে ১, ৫, ১০, ২৫ ও ৫০ পয়সার। এ ছাড়া ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রাও আছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব কয়েন অচল না হলেও সরকারি-বেসরকারি কোনো ব্যাংকই তা নিচ্ছে না। এমনকি কয়েনের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে নতুন ২ টাকা ও ৫ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ছে না কেন্দ্রিয় ব্যাংক। এরপরও অলিখিতভাবে ব্যাংকগুলোতে নিষিদ্ধ হয়ে পড়ায় কোটি কোটি টাকার মুদ্রা অলস পড়ে থাকছে ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের কাছে। এতে আর্থিক তির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। এদিকে হাট-বাজারে দোকানিরাও কেনাবেচায় কয়েন নিতে অনীহা দেখানোয় বিপাকে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। ফলে প্রশ্ন উঠছে ‘কাদের জন্য এ কয়েন’?
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কিছুদিন পাকিস্তানি মুদ্রায় লেনদেন হয়েছে। বাংলাদেশ কয়েনেজ অর্ডার, ১৯৭২ হওয়ার পরের বছর ১৯৭৩ সাল থেকে বিভিন্ন মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা ছাড়তে শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাতব মুদ্রা হিসেবে ৫ পয়সা ও ১০ পয়সা চালু হয় ১৯৭৩ সালে। ১ পয়সার মুদ্রা চালু হয় তারপরের বছর, ১৯৭৪ সালে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যমানের কাগজে নোট ও ধাতব মুদ্রা রয়েছে। এ হিসাবের মধ্যে রয়েছে পাঁচ টাকা, দুই টাকা ও এক টাকার কাগজে নোট ও ধাতব মুদ্রা। তবে ঠিক কী পরিমাণ ধাতব মুদ্রা বা কয়েন বাজারে আছে সে পরিসংখ্যান দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দেশের বাজারে এখন ১, ২ ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা বা কয়েনই বেশি চলে। এগুলোর আবার কাগুজে নোটও আছে। কিন্তু কয়েন লেনদেনে প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। কয়েনের বদলে কাগুজে নোট ব্যবহারে আগ্রহ কিছুটা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর ঈদ উপলে নতুন টাকা বাজারে ছাড়লেও ২ টাকা ও ৫ টাকার নোট বাজারে ছাড়ছে না মুদ্রার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। অনেকে বলছেন, পকেটে বা টাকা রাখার ব্যাগে কয়েন রাখতে সমস্যা হয় বলেই আগ্রহ কমেছে। অনেকে আবার ব্যাংকগুলোকেও দায়ী করছেন। শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, এই কয়েন নিয়ে বিপাকে আছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষজন। ধাতব মুদ্রা, নিম্ন মূল্যমানের নোট ও ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময়ের েেত্র জনসাধারণ বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। এ ধরনের কার্যক্রম তাদের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক লেনদেনে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে তফসিলি ব্যাংকের কয়েন নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় প্রতিবছরই বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হলেও বেশিরভাগ শাখা তা মানছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েন নেয়ার ব্যাপারে গ্রাহকদের আগ্রহ কম। যেহেতু গ্রাহকদের মধ্যে আমরা চালাতে পারি না, তাই নিতেও চাই না। একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জানালেন ভল্টে জায়গা না থাকার কথা। প্রতিষ্ঠানের বিধিনিষেধের কারণে নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তিনিও।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, যে কোনো মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা বা নোট না নেয়ার সুযোগ ব্যাংকের নেই। জনসাধারণও এ ধরনের মুদ্রা নিতে বাধ্য। তবে এক, দুই ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা ও কিছু েেত্র এসব মানের নোট কিছু ব্যাংক না নেয়ার অভিযোগ তারাও পাচ্ছেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ডেকে বা টেলিফোনে সতর্ক করা হচ্ছে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এ বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে। এরপরও কোনো ব্যাংক না নিলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close