ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন খেরুয়া মসজিদ

Spread the love

“মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু”
বগুড়ার শেরপুর শহরটি করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে এবং বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দেিণ অবস্থিত। খেরুয়া মসজিদের অবস্থান শেরপুর শহর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দেিণ। মসজিদে সংস্থাপিত লিপির সা্েয ধারনা করা হয় যে, ষোল শতকের শেষার্ধে এ অঞ্চলে কাকশালদের দ্বারা একটি মুসলিম সমাজ গড়ে উঠেছিল এবং পরবর্তীতে তা কাকশাল বিদ্রোহীদের কেন্দ্রে পরিণত হয়। মুসলিম স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন হয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক খেরুয়া মসজিদ। যে মসজিদটির নির্মাণ শৈলী আজও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটক ও দশনার্থীদের হৃদয় মনে ভীষণভাবে সাড়া দেয়। সীমানা প্রাচীর ঘেরা এ মসজিদটির ভেতরে প্রবেশদ্বারের সামনেই রয়েছে প্রতিষ্ঠাতার কবর।
মসজিদের সামনের দেওয়ালে স্থাপিত ফার্সি শিলালিপি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উদ্ধৃতি থেকে জানাযায়, মির্জা নবাব মুরাদ খানের পৃষ্টপোষকতায় আব্দুস সামাদ ফকির ৯৮৯ হিজরির ২৬ জিলকদ (১৫৮২খ্রি.) সোমবার ওই স্থানে মসজিদটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
উত্তর-দণি লম্বা মসজিদটির বাইরের দিকের দৈর্ঘ্য ৫৭ ফুট এবং প্রস্থ ২৪ ফুট। ভেতরের দিকের দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। আর মসজিদের চারিদিকের দেওয়ালের পুরুত্ব ৬ ফুট। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদের চারকোনায় ৪ টি মিনার ও পূর্ব দেওয়ালে ৩ টি সহ উত্তর-দেিণ আরও ২টি দরজা রয়েছে। এছাড়া মসজিদের ৩ টি মেহরাব আয়তকার ফ্রেমের মধ্যে অধ্যগোলকার করে স্থাপিত। মসজিদের কার্ণিস বাঁকানো। দেওয়ালে কিছু কিছু পোড়া মাটির চিত্র ফলকও ছিল। তবে সংখ্যায় খুবই কম। এ মসজিদ নির্মাণে ইট, চুন ও শুড়কি ছাড়াও বৃহদাকার কৃষ্ণ পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের সামনের দেওয়ালে দু’টি শিলালিপি ছিল। এর একটি শিলালিপির ভেতরে বহু মূলবান সম্পদ রতি ছিল যা পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। আর অপরটি বর্তমানে পাকিস্তানের করাচি জাদুঘরে সংরতি রয়েছে বলে জনশ্রæতি রয়েছে।সম্রাট আকবরের আমলে মসজিদটি নির্মিত হওয়ায় এর দেওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ব্যতিক্রম অনেক চিহ্ন দেখা যায়। স্থাপত্য বিশারদদের মতে খেরুয়া মসজিদে সুলতানী ও মোঘল আমলের মধ্যবর্তী স্থাপত্য নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে। এতে বার ও আট কোনা কলাম ব্যবহার করা হয়েছে। যা বাঙলা স্থাপত্য শিল্পে বিরল। এ মসজিদটি দীর্ঘ সময় অবহেলায় পড়ে ছিল। তবে ৯০’র দশকে দেশের প্রতœতত্ত বিভাগ মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় ও আগের অবস্থায় ফিরে আনে। পরে ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতœতত্ত বিভাগ মসজিদটি সহ এর সম্পত্তি দেখভালের জন্য একজন খাদেম নিয়োগ দেয়।
খাদেম আব্দুস সামাদ জানান, ইতিহাস সমৃদ্ধ এ মসজিদটি পরিদর্শনে প্রতিনিয়ত দেশ বিদেশের বহু পর্যটক ও দর্শনার্থী সহ স্থাপত্য বিশারদরা আসেন। তবে মাত্র কয়েকশ’ গজ কাঁচা সড়ক ঐতিহাসিক এ মসজিদটিকে কিছুটা দুর্গম করে রেখেছে। এ অবস্থায় মসজিদটিতে দেশ বিদেশের পর্যটকদের সরাসরি আসার জন্য পাকা সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে মসজিদ পরিদর্শনে আসা ভ্রমণ পিয়াসী মানুষের যেমন তৃষ্ণা মেটাবে তেমনি মুসলিম স্থাপত্য সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের মাঝে আগ্রহ যোগাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close