স্থানীয় খবর

শেরপুরে করতোয়া নদীর তীরে শীতার্ত যাযাবরদের দুর্ভোগ

Spread the love

“মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু”
সাপের খেলা দেখাই রস খসাই বিষ খসাই দাঁতের পোকা ফালাই। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে একদল মহিলা এ সব কথা বলে দিনভর দাঁতের পোকা ফেলতো,বিষ নামাতো, সাপের খেলা দেখিয়ে টাকা পয়সা চাল ডাল নিয়ে তাদের নৌকারবহর অথবা কোন আস্তানায় ফিরতো। সে রকম বেদে নৌকারবহর বা যাযাবরদের আর তেমন দেখা না গেলেও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর বাজারের পুর্ব পাশে করতোয়া নদীর চরের মধ্যে দেখা গেল তাদের আস্তানা।
করতোয়া নদীর চরের মাধ্যে রবিবার দুপুরে যাযাবরদের আস্তানায় গিয়ে অন্তরা,কুশলী,আঁখি, কাঠুনি ও মিনাদের সাথে কথা বলে জানাযায় তারা সপ্তাহ খানেক আগে এখানে এসে টোংঘর বা ছৈই তুলে আছে মোট ৮টি পরিবার। লোকসংখ্যা প্রায় ৪০ জন। তাদের জন্মস্থান ঢাকার সাভারে। এক প্রশ্নের জবাবে অন্তরা বললো তারা সবাই মুসলমান। সরদারের নাম আলমগীর হোসেন। সরদার সহ অনেকেই বিভিন্ন গ্রামে গেছে সাপের খেলা দেখাতে,দাঁতের পোকা ফেলে রস নামিয়ে বিষ নামিয়ে টাকা পয়সা রোজগার করতে। সন্ধ্যার আগেই আস্তানায় ফিরে আসবে। খাদিজা,দিশা, পার্বতী,তুফান,বক্কর সহ মোট ১১ জন শিশু আছে এই বহরে। পৌশের হাঁড় কাঁপানো শীতের মধ্যে ২ শিশু খালি গায়ে দাঁড়িয়ে থেকে যেন থর থর করে কাঁপছে।
করতোয়া নদীর ব্রীজের পাশে মটরবাইক রেখে তাদের কাছে এগিয়ে যেতে দেখেই অন্তরা আঁখি বলে উঠলো বাবু খুব শীত আমাদের একটু কম্বল দেনা। ছেলে মেয়েদের একটু খাবার দেনা বাবু। আমি ওদেরকে বললাম আমি একজন গনমাধ্যম কর্মী। আমি তোমাদের খবর সংগ্রহ করতে এসেছি। তোমাদের খবর যদি পত্রিকায় ছাপা হয় তাহলে সরকার, জনপ্রতিনিধি,সমাজের বিত্তবানরা ও সরকারী কর্মকর্তারা তোমাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে। এ কথায় কিছুটা আশ্বস্ত হলেও একসাথে কয়েকজন বলে উঠলো বাবু পোলাদের কিছু খেতে দেনা বাবু। অবশেষে নগদ কিছু দিতেই হলো। অনেকেই গাড়ী হাকিয়ে শহরের মধ্যে ২-৪ টি কম্বল দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে অথবা ফটোগ্রাফার সংগে নিয়ে গিয়ে ছবি তুলে পত্রিকার পাতায় ছাপিয়ে বাহবা নেয়ার অপচেষ্টা করে। অথচ নদীর পাড়ে পৌশের হাঁড় কাঁপানো শীতের মধ্যে এই সব ছিন্নমুল মানুষ গুলো কত কষ্ট করছে তা যেন দেখার কেউ নেই।
এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: লিয়াকত আলী সেক এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন কম্বল বা শীতবস্ত্র যা সরকারী বরাদ্দ এসেছিল তা বিতরন করা শেষ হয়েছে। আবার বরাদ্দ পাওয়া গেলে তখন হয়তো দেয়া যাবে। এ সব ছিন্নমুল শীতার্ত মানুষদের সাহাযার্থে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিৎ বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close