স্থানীয় খবর

শেরপুরে মেডিল্যাব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রোগী হয়রানির অভিযোগ

Spread the love

ষ্টাফ রির্পোটার: বগুড়ার শেরপুর শহরে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। চুক্তি করে রোগী ভর্তি করলেও মান সম্পন্ন চিকিৎসা না দিয়ে কয়েকগুন বেশী টাকা আদায় করা সহ রাতের আধাঁরে ভর্তিকৃত রোগীর স্বজনদের মালামাল ও টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মেডিল্যাব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকালে ওই ক্লিনিকের পরিচালক আবু সাইদকে পুলিশ আটক করে থানায় নিলেও মিমাংসার স্বার্থে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সেবামূলক পেশা যদি প্রতারণা হয় তাহলে সাধারণ রোগীরা কোথায় পাবে তাদের কাঙ্খিত সেবা এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে!
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার শিমুলদাইড় গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাকিল (১৫) কে এ্যাপেন্ডিস অপারেশনের জন্য গত ২৪ জানুয়ারি ভর্তি করা হয় মেডিল্যাব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। অপারেশনের যাবতীয় খরচাদি মিলে ৪ হাজার টাকায় চুক্তিতে ভর্তি করা হয়। এদিকে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে পূর্বের চুক্তি ভঙ্গ করে পুনরায় নতুন করে ৮ হাজার টাকা দাবি করে। না দিলে অপারেশন হবে না মর্মে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়। চিকিৎসার স্বার্থে রোগীর স্বজনরা রাজী হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অস্ত্রপচার সম্পন্ন করেন। এদিকে ওই রোগী ভর্তির ১০ দিন পার হলেও সুস্থ না হওয়ার কারণ দেখিয়ে আরো অতিরিক্ত ২৪ হাজার টাকার বিল তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়। রোগীকে ছাড়পত্র দিলেও টাকা পরিশোধ না করায় তাকে জিম্মি করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া চুক্তির টাকা ব্যতিত অতিরিক্ত বিল বাবদ সার্জন ফি ৮ হাজার, অজ্ঞান ডাক্তার ফি ৩ হাজার, ডিউটি ডাক্তার ফি ৪ হাজার, মেডিসিন ৬ হাজার ৫শ, সার্ভিস চার্জ ৩ হাজার ২শ টাকা মিলে ২৪ হাজার ৭শ টাকা বিল ভাউচার হিসেবে দাবী করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এতে রোগীর স্বজনরা ওই টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় রোগীকে ক্লিনিক থেকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন রোগীর মা ও নানী। তাছাড়া ক্লিনিকের কেবিনে রাত্রী যাপন করা কালে রোগীর স্বজনদের দুটো মোবাইল সেট, নগদ ৭ হাজার টাকা ও জ্যাকেট চুরি হয়েছে বলেও তারা জানায়। এমন চুরির অভিযোগ করেছে অন্যান্য বেডে ভর্তিকৃত রোগীর স্বজনরাও। এদিকে রোগী সাকিলকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের নামে জিম্মি করে রাখায় ঘটনায় স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে শেরপুর থানা পুলিশের এসআই সাচ্চু বিশ^াস গত ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকালে ক্লিনিকের পরিচালক আবু সাঈদকে আটক করে থানায় নিলেও পরবর্তীতে মিমাংসার স্বার্থে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।
এ ব্যাপারে মেডিল্যাব ক্লিনিকের পরিচালক আবু সাঈদ রোগীর স্বজনদের মালামাল ও ইতিপূর্বের চুরির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও ওই রোগীকে চুক্তির বাইরে কোন অতিরিক্ত অর্থ দাবী করা হয়নি তিনি জানান। তাছাড়া রোগীকে ছেড়ে দেয়া ও অতিরিক্ত বিল নিয়ে থানায় একটি মিমাংসা বৈঠক রয়েছে এবং উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ক্লিনিক এসোসিয়েশনের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করার কথাও বলেন তিনি।
এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, ক্লিনিক গুলোর অনিয়মের খবর পেলেই অভিযান চালানো হবে। তবে ওই ক্লিনিকের কোন অনিয়মের তথ্য আমার কাছে আসেনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close