জেলার খবর

বগুড়ায় ২ হাজার ৯শ ৫৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নেই

Spread the love

নাহিদ আল মালেক.
বগুড়ার জেলার ১২টি উপজেলার ৩ হাজার ৫০৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে শহীদ মিনার রয়েছে ৫৬৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বাকি ২ হাজার ৯৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নেই শহীদ মিনার। ফলে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজস্ব শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা।
বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৯০৫টি। এগুলোর মধ্যে নিন্মমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৯টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৯৫টি, কলেজ ৭৬টি, মাদরাসা ৩০৭টি, স্কুল এন্ড কলেজ ৩৮টি এবং কারিগরী কলেজ ৪৭টি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে ২৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১ হাজার ৬০৩টি। আর কিন্ডারগার্ডেন (কেজি) স্কুল রয়েছে ৮০১টি। এর মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে ৩৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কিন্ডারগার্ডেন বা বেসরকারী স্কুলগুলোতে শহীদ মিনার নেই।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে আদমদিঘীতে ২০টি,কাহালুতে ১৩টি,গাবতলীতে ২৩টি, দুপচাঁচিয়াতে ১৯টি, ধুনটে ২৫টি, নন্দীগ্রামে ২০টি, বগুড়া সদরে ৩৬টি, শিবগঞ্জে ৫৩টি, শেরপুরে ২৫টি, সারিয়াকান্দিতে ৮৪টি, সোনাতলায় ১৫টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। শাজাহানপুরে কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। তবে নির্মাণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ১২টি স্কুলে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদ্রাসার মধ্যে আদমদিঘীতে ১৬টি, ধুনটে ২১টি, গাবতলীতে ১৮টি, কাহালুতে ১৮টি, নন্দীগ্রামে ১৪টি, শাজাহানপুরে ১২টি, সারিয়াকান্দিতে ১০টি, শেরপুরে ২৯টি, শিবগঞ্জে ২৮টি, সোনাতলায় ১৩টি ও দুপচাঁচিয়ায় ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে নিজস্ব শহীদ মিনার।
সারিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম কবীর জানান, এ উপজেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৬৮টি। কেজি স্কুল ২৯টি। এর মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে ৮৪টি। বিগত এক বছরে বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ড থেকে ২৬টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। বাকিগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। কিন্তু ৪৩টি স্কুল চরাঞ্চলে হওয়ায় কিছু সমস্যাও রয়েছে।
শেরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিনা পারভীন জানান, প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি নিদের্শনা রয়েছে। এজন্য আগামী ১৭ই মার্চ মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শহীদ মিনার নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান রওশন আরা জানান, বগুড়া সদরে ১২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝে ৩৬টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। ৮৩টিতে নেই। ৩টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ চলছে।
বগুড়ার ভাষাসৈনিক মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুল হক দুলু জানান, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা কলার গাছ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরী করে ফুল দেয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রতিটি বিদ্যালয়েই শহীদ মিনার নির্মিত হওয়া উচিত।
বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন জানান, ২১ শে ফেব্রুয়ারী মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং আগামী প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা তৈরীতে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের নির্দেশনা রয়েছে। বগুড়ায় বর্তমানে ২৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ চলছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়েই শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হযরত আলী জানান, জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এখনো শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। তবে শহীদ মিনার নির্মাণে স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেবার জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close