খেলাধুলা

তামিমের সেঞ্চুরিতে পাহাড় চূড়ায় বাংলাদেশ

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: লিটন দাসের সেঞ্চুরি আর মোহাম্মাদ মিথুনের হাফ সেঞ্চুরির ম্যাচে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পায়নি জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে তিন ম্যাচের সিরিজ পকেটে পুরবে স্বাগতিক দল। তামিম ইকবালের শতক আর মুশফিকুর রহিমের অর্ধ শতকে রানের পাহাড় গড়ে জয়ের মঞ্চটা আগেই তৈরি করে রাখল টাইগাররা।
আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ দল। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে সেটি ভেঙে নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে মাশরাফী বাহিনী। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩২২ রান সংগ্রহ করেছে লাল সবুজ জার্সিধারীরা। ফলে সিরিজ বাঁচাতে সফরকারিদের প্রয়োজন ৩২৩ রান।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস পরীক্ষায় জিতে ব্যাটিং বেছে নেন বাংলাদেশ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর লিটন দাসের ব্যাটে সুন্দর সূচনা পায় স্বাগতিকরা। তবে জুটিকে খুব বেশি লম্বা করতে পারেনি তারা। দলীয় ৩৮ রানে রানআউটের ফাঁদে পা দিয়ে সাজঘরে ফেরেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাস। তার আগে ৯ রান করেন এই ওপেনার।
লিটন দাসের দুর্ভাগ্যজনক আউটের রেশ কাটতে না কাটতেই রান আউটে কাটা পড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়েসলি মাধভেরের করা ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি প্যাডে লেগে শর্ট ফাইন লেগে যেতে না যেতেই দৌড়ে স্ট্রাইকিং প্রান্তে চলে আসেন তামিম। বিপদ হতে পারে জেনে রান নিতে না চাওয়া শান্ত পরে দৌড় শুরু করে নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।

লিটন দাস আর নাজমুল হাসান শান্তকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের ৪৮তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম ইকবাল। ৪২ বল মোকাবেলা করে ১০টি চারের মারে অর্ধ শতক পুর্ণ করেন এই ওপেনার। শান্তর বিদায়ের তামিমের সাথে জুটি বাঁধেন মুশফিকুর রহিম। জিম্বাবুয়ের বোলারদের শাসন করে এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানও হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। তবে ফিফটিকে বড় ইনিংসে রুপ দিতে পারেননি তিনি। ছয়টি চারে ৫০ বলে ৫৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। তার আগে তামিমের সঙ্গে ৮৭ রানের জুটি গড়েন মুশি।
এদিন এক প্রান্ত আগলে রেখে সমালোচকদের জবাব দেন তামিম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে মন্থর ব্যাটিং করে সমালোচনার কবলে পড়েন তামিম ইকবাল। ৪৩ বলে ২৪ রান করে আউট হয়েছিলেন তিনি। তাই শুরু থেকেই মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ক্যারিয়ারের ১২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম।
৪২ বলে ফিফটি পুর্ণ করলেও সেঞ্চুরি হাঁকাতে একটু বেশি বল খেলেছেন তামিম (১০৬ বলে)। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক শন উইলিয়ামসের করা ৩৭তম ওভারের শেষ বলে ২ রান নিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার। ১৯ মাস পর শতকের দেখা পেলেন তামিম।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের জুলাইয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। এরপর দীর্ঘ সময়ে আর শতকের দেখা পাননি তিনি। অবশেষে ১৯ মাস পর কাঙ্ক্ষিত সেই সেঞ্চুরি তুলে নিলেন দেশ সেরা এই ওপেনার। এটি তার ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি।
এদিন আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৭০০০ রানের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করেন তিনি।
তামিমের সেঞ্চুরির পর শত রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ। দলীয় ২৫৮ রানের মাথায় চার্লটন টিসুমার বলে ওয়েসলি মাধভেরের তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তার আগে ৫৭ বলে ৩টি চারে ৪১ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। তবে আরেক প্রান্তে জিম্বাবুয়ের বোলারদের পিটিয়ে স্কোর বোর্ডে রান বাড়াতে থাকেন তামিম। শেষ পর্যন্ত এই ওপেনারকে থামিয়ে দেন কার্ল মুম্বা। তার আগে ১৩৬ বলে ২০টি চার আর ৩ ছক্কায় ১৫৮ রান করেন তামিম।
তামিমের বিদায়ের পর ব্যাটে ঝড় তোলেন মোহাম্মদ মিথুন। তার ব্যাটে চড়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৮ বলে ৩টি চার আর এক ছক্কায় ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। জিম্বাবুয়ের হয়ে ডোনাল্ড তিরিপানো ও কার্ল মুম্বা ২টি করে উইকেট পেয়েছেন।
এদিন একাদশে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে স্বাগতিকরা। মোস্তাফিজুর রহমান ও সাইফউদ্দিনের পরিবর্তে একাদশে ঢুকেছেন আল আমিন ও শফিউল ইসলাম। পরিবর্তন এসেছে জিম্বাবুয়ের একাদশেও। চোটের কারণে সফরকারিদের দলে নেই প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেয়া চামু চিবাবা। তার পরিবর্তে ফিরেছেন নিয়মিত অধিনায়ক শন উইলিয়ামস। এছাড়া পেসার ক্রিস্টোফার এমপোফুর বদলে অভিষেক হয়েছে ২৬ বছর বয়সী মিডিয়াম পেসার চার্লটন শুমার।
প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ১৬৯ রানের বড় জয়ে সেই লক্ষ্যে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে স্বাগতিক দল। রান বিবেচনায় নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা। এছাড়া আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে টানা ১৪ ম্যাচ জয়ের নজিরও গড়েছে মাশরাফী বাহিনী।
বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে ৭৪তম বারের মত একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। আগের ৭৩ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ ৪৫টিতে ও জিম্বাবুয়ে ২৮টিতে জয় পেয়েছে।
বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিথুন, শফিউল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও আল আমিন হোসেন।

জিম্বাবুয়ে একাদশ : শন উইলিয়ামস (অধিনায়ক), তিনাশি কামুনহুকামুই, ব্রেন্ডন টেলর, রিচমন্ড মুতুম্বামি, রেগিস চাকাভা, ওয়েসলে মাধেভের, চার্লটন শুমা, টিনোটেন্ডা মুতোমবদজি, ডোনাল্ড তিরিপানো, চার্ল মুম্বা এবং সিকান্দার রাজা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close