দেশের খবর

তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: করোনাভাইরাসের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা সম্মেলন আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। করোনার প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ার পর সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধিসহ সম্মেলনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। তবে জনসমাগম করে নয় ঘরোয়া পরিসরে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি চালানো হবে। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ বৈঠকের সূচনা বক্তব্য রাখেন দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় করোনাভাইরাস ও মুজিববর্ষ নিয়ে নানা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান সারাদেশে কিভাবে উদযাপিত হবে জাতীয় উদযাপন কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে আওয়ামী লীগের সভায় আলোচনা করা হয়। জনসমাগম না করলেও দেশব্যাপী কালারফুল আয়োজন ও সাজসজ্জা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতা এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এসময় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।
বৈঠক সূত্রে আরো জানা গেছে, করোনাভাইরাস নিয়ে যাতে কেউ আতঙ্ক ছড়াতে না পারে সেজন্য দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারাদেশে জনসাধারণকে সচেতন করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। শুধু ঢাকা নয় বাংলাদেশের যেকোনো এলাকায় জনসমাগম এড়িয়ে কর্মসূচি কিভাবে পালন করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে থেকে শুরু করে সর্বত্র আলোকসজ্জা কার্যক্রম চলবে। সাংগঠনিক কোনো কর্মকাণ্ড বৃহৎ পরিসরে আপাতত করা যাবে না। সভায় করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করা হয় বলে জানা গেছে।
এড়াছা মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে দলের পক্ষ থেকে এককোটি চারা রোপন করবে আওয়ামী লীগ। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের জেলা উপজেলা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ রাত ৮টায় জন্মগ্রহণ করেন, ওই সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপকহারে জনসমাগম না করে সারাদেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ১৭ মার্চ রাত ৮টায় আতশবাজি উৎসব করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ব্যাপক কোন জনসমাগম না হলেও দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কার্যালয়গুলো আলোকসজ্জা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মুজিববর্ষ নিয়ে কাউকে বাড়াবাড়ি না করার পক্ষে কথা বলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। অন্যদিকে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ না করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান কেন্দ্রীয় নেতারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close