স্থানীয় খবর

শেরপুরে ১০ টাকা কেজির সরকারি চাল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

Spread the love

“মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু”
বগুড়ার শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির ডিলার নিয়োগের তালিকায় একজন মহিলা জন প্রতিনিধির নাম পাওয়া গেছে। দঃুস্থদের নামের সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রি হলেও দেখার যেন কেউ নাই।
বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উৎযাপন উপলক্ষে এ বছর ১০ টাকা কেজি দরের সরকারি চাল বিতরণ শুরু হয় সোমবার থেকে। শেরপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ২০ জন ডিলারের নামে ৪৩১ মে: টন ১০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। জনপ্রতি প্রতিমাসে প্রতিটি কার্ডে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়। কমিশনের ভিত্তিতে সরকারি ভাবে নিয়োগকৃত ডিলারের বরাবরে চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও সেখানে চলছে সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি ও হয়রানী। সোমবার সকাল ১১ টায় মির্জাপুর বাজারের দক্ষিনে শামীম হক নামের খাদ্য বান্ধব ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে ওজনে চাল কম দেয়ার । সুবিধা ভোগী প্রতিবন্ধি আমেনা বিবি (৬০) (কার্ডধারীর নং-৯৬৭) এর ছেলে আরমান আলী জানায়, নগদ ৩০০ টাকা জমা নিয়ে ডিলারের লোকজন জোর পূর্বক ২৯ কেজি চাল দেন। এরপর মোবাইলফোনে অভিযোগ দেয়া হলে সেখানে শেরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেকেন্দার রবিউল হক উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা দেখে ডিলারকে সতর্ক করেন।
একই অবস্থা শেরপুর উপজেলার কতিপয় ডিলারের দোকানে। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২০ জন ডিলারকে তদারকি করার জন্য শেরপুর উপজেলা কৃষি অফিস, শিক্ষা অফিস সহ বিভিন্ন অফিসের সরকারি কর্মকতাদের দায়িত্ব দেয়া হলেও অনেকেই দায়িত্ব পালনে অনিহা দেখানোর ফলে প্রকাশ্যে সরকারি চাল কেনা বেচা হচ্ছে।
এদিকে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির সুবিধা ভোগী কার্ডধারীরা জানায়, সরকারি গুদামের চাল নি¤œমানের বলে ডিলারের লোকেরা জোর পূর্বক প্রতিটি কার্ড মাত্র ২৫০ টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছেন । সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের ফুলবাড়ি বাজার সংলগ্ন খাদিজা বেগম নামের ডিলারের গুদামে গিয়ে দেখা যায় সেখানে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন আব্দুল মোমিন নামের একজন ব্যবসায়ী।
স্থানীয়রা জানায়, একজন মহিলা জনপ্রতিনিধির নামে ওই ডিলার শিপ ভাড়া দেয়া হয়েছে। ফলে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। ফুলবাড়ি মাদরাসা কেন্দ্রে চাল নিতে আসা সুবিধা ভোগীদের কার্ডের ওপরে টিপ সহি দেয়ার পর মাত্র ২২০ টাকা হাতে দিয়ে ৩০ কেজি ওজনের চালের ব্যাগ জোর পূর্বক কেঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে ডিলারের নিযুক্ত কর্মচারীরা। চন্ডিজান গ্রামের আশাদুল ইসলামের পুত্র ভ্যান চালক স্বপন মিয়া জানায়, ৩০ কেজি ওজনের চালের ব্যাগ সকাল থেকে কেনা বেচা হচ্ছে মাত্র ৫৫০- ৬০০ টাকা দরে। এ সময় ভ্যান গাড়িতে ৫০ কেজি ওজনের ১২ ব্যাগ চাল কালো বাজারে পাচার হতে দেয়া গেছে। ৮নং ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামের অটো চালক জাবেদ আলী জানায়, একই গ্রামের জিলহক নামের চাল ব্যবসায়ী সরকারি খাদ্য বান্ধবের চাল ক্রয় করে তার বাড়িতে নেয়ার সময় জনতা দামুয়া গ্রামের ভেতরে আটক করলেও শেরপুর উপজেলা খাদ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তার হুকুমে তা ছেড়ে দেয়া হয়। মুজিব বর্ষে সরকারের আগাম খাদ্যবান্ধব কর্মসুচিতে হাজারো অনিয়ম হলেও দেখার কেই নাই। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেকেন্দার রবিউল হক জানান তিনি একটি অভিযোগ সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ঐ ডিলার কে সতর্ক করেছেন। খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির চাল বিতরনে কোন অনিয়ম বরদাস্ত করা হবেনা। এব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখের সাথে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন অভিযোগ তদন্তে প্রমান হলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close