দেশের খবর

করোনার মধ্যেই দেশে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা!

Spread the love

শেরপুর ডেস্ক: গোটা বিশ্ব কাঁপছে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এরই মধ্যে দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮০৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সারাদেশে বন্ধ রয়েছে অফিস-আদালত, পরিবহন, দোকানপাট। বলা যায়, দেশব্য্পাী চলছে অঘোষিত লকডাউন। এমন অবস্থায় দেশে এবার তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কাও।
আবহাওয়া অফিস বলছে, চলতি মাসের শেষে ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে বেশ কয়েকটি কালবৈশাখী ঝড়। তাপপ্রবাহের কারণে আকাশে মেঘমালা তৈরি হচ্ছে, আর এই মেঘমালা থেকেই নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। নিম্নচাপ শক্তিশালী হলেই হবে ঘূর্ণিঝড়। চলতি মাসে এমন ঝড়েরই আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস শঙ্কা তৈরি করেছে উপকূলের মানুষের জীবনে। দেশে দুই কোটির বেশি মানুষ উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। এদের বেশিরভাগ ঘূর্ণিঝড়ের সময় স্থানীয় সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান নেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর এই সময়ে ঘূর্ণিঝড় হলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে উপকূলের সাধারণ মানুষ। অথচ করোনা প্রতিরোধের অন্যতম শর্ত হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। এই সময়ে যদি ঘূর্ণিঝড় হয় তাহলে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে উপকূলবাসীর জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে নিতে হবে ব্যাপক উদ্যোগ।
বিশ্বব্যাপী করোনা মোকাবিলার প্রধান শর্ত হচ্ছে- সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় হলে সাইক্লোন শেল্টারে সেই দূরত্ব মেনে চলা কঠিন হবে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আগে যেভাবে লোক রাখা হতো এখন তা সম্ভব হবে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এমনিতে আগের চেয়ে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বেশ ভালো। সবশেষ দুটি ঘূর্ণিঝড়ে উপকূল থেকে প্রায় সব মানুষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া গেছে। কিন্তু এখন ঘূর্ণিঝড় হলে আগের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে করোনার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, চলতি মাসে স্বাভাবিক ঝড়বৃষ্টির পাশাপাশি একটি ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। এ সময় সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হয়। সেটি বেশি শক্তিশালী হলে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। তবে অনেক সময় আবার ঝড়ে রূপ নেওয়ার আগেই দুর্বল হয়ে যায়।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে দেশের ঋতুগুলোর পরিবর্তন ঘটছে। আগে যেখানে বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড় হতো। এখন তা হচ্ছে না। এখন প্রায় মাসখানেক আগে থেকেই এই ঝড় শুরু হয়ে যায়। অন্যদিকে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে আকাশে অনেক মেঘমালার সৃষ্টি হয়। এসব মেঘমালা যদি সাগরে তৈরি হয়, তাহলে তা সাগরে জলীয় বাষ্প এবং পানি মিলে-মিশে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। এই নিম্নচাপ বেশি শক্তিশালী হয়ে গেলেই মুশকিল। তখন সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।
আবহাওয়ার দীর্ঘ মেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়, এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এরমধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close