স্থানীয় খবর

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছের ড্রামে লুকিয়ে বগুড়ায় বাড়ি আসছে মানুষ

Spread the love

ষ্টাফ রির্পোটার: করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এই ভাইরাসটির সংক্রমণ বিস্তার রোধে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত বগুড়া জেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাইরের কোন লোক যেন ঢুকতে না পারে সেজন্য জেলার প্রবেশমুখ মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী বাজারে বসানো হয়েছে পুলিশের চেকপোষ্ট।
প্রাণঘাতী করোনা প্রতিরোধে স্থাপিত এই চেকপোষ্টে পুলিশের কড়াকড়ি আরোপের কারণে অন্য জেলার লোকজন সহসায় ঢুকতে পারছেন না। তবে এরপরও বসে নেই তারা। নানা পন্থা অবলম্বন করে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লকডাউনের নির্দেশনা ভেঙে ঢাকা থেকে প্রতিনিয়তই লোকজন এই জেলায় প্রবেশ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে মাছবাহী পিকআপে মাছের ড্রামে করে লুকিয়েও আসছেন তারা। এছাড়া জরুরি সেবা, গণমাধ্যম, খাদ্যপণ্য ইত্যাদি লেখা ভুয়া স্টিকার লাগানো যানবাহনেও যাত্রী পরিবহন চলছে। বৃহস্পতিবার (২৩এপ্রিল) সকালের দিকে পুলিশের চেকপোষ্টে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মাছের ড্রামে লুকিয়ে যাত্রী নিয়ে আসা পিকআপ আটকের পর এমন তথ্যই ওঠে আসে। জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞ্রার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) গাজীউর রহমান, শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ওই তল্লাশি অভিযানের নেতৃত্বে দেন। পরে আটক পিকআপের যাত্রীরা এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাওয়ায় তাদের নাম পরিচয় লিপিবদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। শেরপুর থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস যেন মহামারি রুপ নিতে না পারে সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙখলা বাহিনী। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক মাইকিং করে সবাইকে অনুরোধও জানানো হয়েছে। এরপরও নানা অজুহাতে অনেক মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনাও মানছেন না তারা। তাই প্রতিনিয়ই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এবং এই ভাইরাসটির বিস্তার রোধে ইতিমধ্যে এই জেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাইরের কোন মানুষ যেন ঢুকতে না পারে সেজন্য জেলার প্রবেশমুখসহ সীমাবাড়ী বাজারসহ একাধিক স্থানে চোকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এরপরও অনেক মানুষ নানা পন্থায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি পিকআপে মাছের ড্রামে লুকিয়ে বগুড়ার দিকে আসছিলেন। তবে পিকআপটিতে তল্লাশি চালানোর পর ধরা পড়েন তারা। কিন্তু নিম্ন আয়ের ওইসব লোকজন এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে তাদের নাম-পরিচয় লিপিবদ্ধ ও যাচাই-বাছাই করে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close