দেশের খবর

শিক্ষিকা মা যখন করোনাযোদ্ধা

Spread the love

আজকের শেরপুর ডেস্ক: করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব, থেমে গেছে অর্থনীতির সকল চালিকাশক্তি। বন্ধ হয়ে গেছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর দেশের সকল শিক্ষক শিক্ষার্থীরা হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন নিজেদেরকে বাঁচাতে তথা দেশকে বাঁচাতে। প্রতিনিয়ত পাঠদান আর গবেষণা করা শিক্ষকগণ রয়েছেন তার নিজ পরিবারে, কোয়ারেন্টিনের এ মূল্যবান সময়টুকু পরিবারকে দিচ্ছেন। কিন্তু এর বাইরেও কিছু শিক্ষক রয়েছেন যারা পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে, নিজের জীবন বাজি রেখে, দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে নিজেদেরকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে কাজ করছেন একেকজন সফল করোনাযোদ্ধা হিসাবে।
শিক্ষক যদি পুরুষ হন তাহলে কিছুটা জটিলতা কম থাকছে কিন্তু করোনাযোদ্ধা শিক্ষক যদি নারী হন তাহলে জটিলতা আরও বেশী। অনেক মা শিক্ষকই সারাদিন শ্রেণিকক্ষে ক্লাস আর ল্যাবে গবেষণার পর রাতে অবশিষ্ট সময়টুকু দেন তার সন্তানদেরকে। কিন্তু করোনাযোদ্ধা এ সকল মায়েরা গবেষণাগারে করোনা পরীক্ষার জন্য অহর্নিশি কাজ করছেন, যেতে পারছেন না তার পরিবারের কাছে, দেখাশোনা আর যতœ নিতে পারছেন না তার সন্তানদেরকে, এ অবস্থায় সন্তানেরাও বঞ্চিত হচ্ছে মায়ের আদর, স্নেহ-ভালোবাসা থেকে।
এমন দুজন গবেষক মা শিক্ষক করোনাযোদ্ধা হিসাবে কাজ করছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে। তারা দুজনই একাধারে একজন মা, শিক্ষক, গবেষক এবং একেকজন সফল করোনাযোদ্ধা। গত ১৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে শুরু হয় বৃহত্তর যশোর ও তার পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আসা করোনার নমুনা পরীক্ষা আর প্রথম দলেই সফলভাবে কাজ করেছেন তারা। গত ৩০ এপ্রিল তাদের দলের কাজ শেষ হবার পর দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে আছেন পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. শিরিন নিগার এবং অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তার।
ভয়াবহ করোনার এ যুদ্ধে নিয়োজিত করা সম্পর্কে পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শিরিন নিগার বলেন, “কাজ করতে পেরে নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে, সমাজের ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই কাজ করেছি। যখন বিশ্ববিদ্যালয় এ মরণঘাতি পরীক্ষা করার সুযোগ পেলো তখন নিজেকে এ মহৎ কাজে নিয়োজিত করার লোভ সামলাতে পারিনি। করোনা পরীক্ষায় আসার পর থেকে নিজের সন্তানের সাথে দেখা করতে পারি না, সন্তান ও পরিবার-পরিজনদের জন্যও শূণ্যতাবোধ হয়। অন্য সময় বাসায় গৃহপরিচারিকা থাকে, তারা কিছুটা হলেও পরিবারের কাজ করে দিতে পারে আর এখন গৃহপরিচারিকাদেরকেও করোনার কারনে ছুটি দিতে হয়েছে। পরীক্ষা করাকালে যখন খাবার জন্য বের হতাম তখন সন্তান বেলকনিতে আসলে সন্তানকে আবছাভাবে একনজর দেখে নিতাম। এখন কোয়ারেন্টিনে দূর থেকে সন্তান আর পরিবারকে ভিডিও কলিংয়ে দেখি আর তাদের অভাববোধ করি।”
পরিবার পরিজনকে ছেড়ে করোনা পরীক্ষায় নিজেকে শামিল করা সম্পর্কে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তার বলেন, “অন্য সরকারী চাকুরীজীবিদের মত করোনা পরীক্ষায় আসার জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা ছিলো না, নিজের সদিচ্ছা আর দায়িত্ববোধ থেকেই করোনাযুদ্ধে নিজেকে শামিল করেছি। চাইলে করোনা পরীক্ষার সাথে নিজেকে সংশ্লিষ্ট না করে পরিবার পরিজনকে নিয়ে সানন্দে সময় কাটাতে পারতাম। নিজের সাড়ে তিন বছরের দুইটা সন্তান রয়েছে তাদেরকেও কাছে রাখতে এবং দেখাশোনা করতে পারছি না, তাদেরকেও খুব মিস করছি। তবে সকল প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মাঝে মানবকল্যাণে কাজ করতে পেরে নিজের খুব গর্বিত বোধ হচ্ছে আর সকল কষ্ট সার্থক বলে মনে হচ্ছে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close